ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাদকবিরোধী প্রতিবাদের জেরে এপিবিএন সদস্যের হাত-পা ও রগ কাটার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
মাদকবিরোধী প্রতিবাদের জেরে এপিবিএন সদস্যের হাত-পা ও রগ কাটার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় এপিবিএন-এর এক সদস্যকে বেদম মারধর করে হাত ও পা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি পায়ের রগ কেটে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই পুলিশ সদস্যের পরিবারের দাবি, মূলত এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাঁকে এই নৃশংস হামলার শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, ঠিক রাত এগারোটার দিকে তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এই হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়। বর্বরোচিত এই হামলার শিকার আবুল কালামের বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

আহত পুলিশ সদস্যের বোন সুমাইয়া আক্তার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাদকের অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর ভাইকে আক্ষরিক অর্থেই হত্যার টার্গেটে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাইয়ের একটি পা তিনটি খণ্ডে এবং অপর পাটি দুটি খণ্ডে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে পায়ে মারাত্মক জখম করে রগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম বেশ কিছুদিন ধরে নিজ এলাকায় চলমান অবৈধ মাদক ব্যবসার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। এর অংশ হিসেবে গত মাসেই মাসাবো এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহাদাত হোসেন এবং এমদাদুল হককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিতে বিশেষ সহায়তা করেছিলেন তিনি। এই ঘটনার পর থেকেই শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে আবুল কালামকে লাগাতার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের বাবা আবদুল মালেক গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ঘটনার দিন রাতে শাহজালাল মুঠোফোনে কল করে আবুল কালামকে ঘর থেকে বাইরে ডেকে নেন এবং একটি নিভৃত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর শাহজালালসহ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত চড়াও হন। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারপিট চালিয়ে তাঁর ডান হাত ও বাম পা ভেঙে ফেলেন।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে মারধরের চোটে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আক্রমণকারীরা তাঁর ডান পায়ের রগ নৃশংসভাবে কেটে দেন। পরবর্তীতে আবুল কালামের আত্মচিৎকার শুনে চারপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন, তখন হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর স্থানীয় লোকজনই তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে বিভিন্ন স্থানে এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আবুল কালামের বাবা আবদুল মালেক দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, তাঁর ছেলেকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁর ছেলের শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, আক্রান্ত এপিবিএন সদস্য আবুল কালাম মূলত হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন। যদিও গত মাসে তাঁর অন্যত্রে বদলির আদেশ হয়েছিল, তবে তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। ছুটিতে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদক কারবারিদের হামলার কবলে পড়েন। এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ব্রিটেন ইরানে মার্কিন হামলার জন্য নিজের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দ

ব্রিটেন ইরানে মার্কিন হামলার জন্য নিজের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দ