ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আসিফ ধানের শীষে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন: রাশেদ খাঁন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
আসিফ ধানের শীষে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন: রাশেদ খাঁন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পদত্যাগের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন বলে দাবি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিএনপি এই নেতার প্রতি কোনো প্রকার আগ্রহ প্রকাশ না করায় তিনি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই এনসিপিতে নাম লিখিয়েছেন। গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজের আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। অন্যদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাশেদের এই ধরনের বক্তব্য নিয়ে কোনো রকম মন্তব্য করাকেই তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন বলে মনে করছেন।

ফেসবুকে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেছেন যে, কেবল আসিফ নন, মাহফুজ আলমও একই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এই দুজন একসঙ্গে বিএনপিতে নাম লেখানো এবং নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা আদায় করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে ধারাবাহিকভাবে যাতায়াত করেছিলেন। কিন্তু দলটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কোনো উপদেষ্টা তাদের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক, তা তারা সমর্থন করে না। তবে মাহফুজ আলম শেষ পর্যন্ত এই সুযোগ না পেয়ে নিজের নৈতিকতা বজায় রেখেছেন এবং তাঁর এই সততার প্রশংসা করেছেন রাশেদ।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাহসী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাহিদ ইসলামের পরেই এনসিপিতে আসিফের স্থান পাওয়ার কথা ছিল বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। কিন্তু তাঁর অতীতের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং এনসিপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে চরম দোদুল্যমান মানসিকতার কারণে তিনি বর্তমানে দলটির শীর্ষ ছয় নেতার তালিকার একেবারে শেষের দিকে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ নিজের বিগত দিনের বিভিন্ন ভূমিকার জেরে তিনি দলটির ভেতর দারুণভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল তিন নেতার মধ্যে নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে নাহিদ সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের পদ গ্রহণ করেন। অপরদিকে মাহফুজ ও আসিফ দুজনেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে গত ১০ ডিসেম্বর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে গত ২৯ ডিসেম্বর আসিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রথমে দলের মুখপাত্র এবং বর্তমানে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির জোট গঠনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পারার কারণে মাহফুজ আলম সেই দলে যোগ দেননি এবং বর্তমানে তিনি ‘অল্টারনেটিভস’ নামের একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সংগঠক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাশেদের এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আসিফ মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কেবল অসত্য তথ্য পরিবেশন করার জন্যই তাঁকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর এসব কথাকে মন্তব্য করার মতো কোনো গুরুত্ব তিনি দিচ্ছেন না। পাশাপাশি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মাহফুজ আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ও প্রশ্ন দেখেও কোনো উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

এ ছাড়া নিজের ফেসবুক পোস্টের অন্য একটি অংশে বেশি আসনে আসন সমঝোতার লক্ষে এনসিপির এক ডজন শীর্ষ নেতা নিয়মিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি এই দলকে চারের অধিক আসন ছাড় দিতে রাজি হয়নি, আর সে কারণেই অধিক আসন ও নির্বাচনের পর্যাপ্ত তহবিল পাওয়ার আশায় তারা জামায়াত জোটে ভিড়েছে, যা মূলত সুবিধাবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

বর্তমানে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কিংবা জামায়াতের পরোক্ষ প্ররোচনায় বিএনপিকে চাপে রাখতে কৌশলগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে এনসিপি বলে মন্তব্য করেন রাশেদ। তবে তাঁর মতে, এই আন্দোলন পুরোপুরি একটি ব্যর্থ কর্মসূচি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকারের এই মন্ত্রীর কিছু করার ন্যূনতম সামর্থ্য তাদের নেই, কেননা তিনি আকস্মিক কোনো সুবিধায় নেতা হননি, বরং সুদীর্ঘ লড়াই, মেধা ও যোগ্যতার ফলেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

সবশেষে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন যে, জামায়াত ও এনসিপির সমন্বয়ে গঠিত নব্বইজন সংসদ সদস্যের সম্মিলিত মেধা ও যোগ্যতাও একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমকক্ষ হতে পারে না, আর তাদের মূল ক্ষোভ ও যন্ত্রণার জায়গাটি ঠিক এখানেই নিহিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের এই ভিত্তিহীন দাবি তুলে বিএনপিকে চাপে ফেলার মাধ্যমে তারা মূলত বিরিয়ানির ভাগ পেতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর সাফ কথা হলো, বিএনপি কখনই ভাগ-বাঁটোয়ারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং দলটি সর্বদা রাষ্ট্র মেরামতের রাজনীতি করে থাকে, যার ফলে জামায়াত-এনসিপি যতই চেষ্টা করুক না কেন, বিএনপির কাছ থেকে বিরিয়ানির কোনো ভাগ পাওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জয়ন্তীতে চাঁদা বিরোধের জেরে জেলেদের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোর

জয়ন্তীতে চাঁদা বিরোধের জেরে জেলেদের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোর