নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকা জেনিফার লরেন্সের জন্য ক্যামেরার সামনে অন্তরঙ্গ বা খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করা সম্পূর্ণ নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। তথাপি, ঠিক এ রকমই একটি বিশেষ মুহূর্তের দৃশ্যধারণের কাজ করতে গিয়ে তাঁকে অতীতে বেশ বিব্রতকর এবং অপ্রীতিকর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি খেয়াল করেছিলেন যে, শুটিং স্পটে এমন কিছু বাইরের লোক উপস্থিত রয়েছে, যাদের সেখানে কোনোভাবেই থাকার কথা ছিল না বা তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। এই অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেননি এই খ্যাতিমান অভিনেত্রী এবং এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ‘কল হার ড্যাডি’ নামক একটি জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এসে নিজের জীবনের ঠিক এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাটির কথা শ্রোতাদের কাছে সবিস্তারে ব্যক্ত করেছেন এই তারকা।
অভিনয়জীবনের নানান দিক নিয়ে আলাপকালে লরেন্স ব্যাখ্যা করেন যে, পেশাগত তাগিদে অনেক সময় ফুটিয়ে তোলা চরিত্রের স্বার্থে পরিচালক বা নির্মাতাদের নির্দিষ্ট চাহিদামতো নিজেদের চেহারায় ও শরীরকে মানিয়ে নিতে হয়। চরিত্রের নিখুঁত রূপদানের জন্য মাথার চুল কেটে ছোট করে ফেলা, চুলে একদম ভিন্ন কোনো রঙের ছোঁয়া দেওয়া কিংবা শারীরিক অবয়বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা—এসব বিষয়াদি মূলত অভিনয়েরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে সময়ের সাথে সাথে এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ হওয়ার সুবাদে নিজের প্রাপ্য অধিকার এবং ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষার ব্যাপারে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। এখন কাজের জায়গায় কোনো কারণে প্রয়োজন অনুভূত হলে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেন না।
নিজের নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ের সেই অতীতের ঘটনাটি সামনে এনে লরেন্স জানান যে, একবার ওই জাতীয় একটি দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সময় সেটে এমন কিছু অচেনা মানুষ উপস্থিত ছিল যাদের সেখানে প্রবেশের কোনো বৈধ অধিকার ছিল না। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে এবং কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ করে বসেন। তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস অনুযায়ী, একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সম্মান ও অধিকার রক্ষার্থে আওয়াজ তোলাটা যেমন একান্ত অপরিহার্য, ঠিক তেমনিভাবে নতুন ও আনকোরা বা অনভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেও এই ধরনের সাহসিকতাপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করা খুবই জরুরি। লরেন্সের নিজস্ব জবানিতে বিষয়টি এ রকম, তিনি যদি নিজে এই সঠিক নীতিটির পক্ষে অবস্থান না নেন, তবে আঠারো বছর বয়সী কোনো অচেনা ও নতুন মেয়ে যখন কাজের সূত্রে সেটে পা রাখবে, তখন তার চরম দুর্দশা হবে। সেই তরুণী হয়তো মনে মনে ভয় পাবে যে প্রতিবাদ করলেই তাকে সবাই বদমেজাজি হিসেবে চিহ্নিত করবে, অথচ তাকে বাধ্য করা হবে এমন কিছু মানুষের সামনে নগ্ন হতে যাদের উপস্থিতি তার কাছে পুরোপুরি অস্বস্তিকর ঠেকছে। এই আচরণটি কেন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, তা সকলের সামনে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এ ছাড়াও সিনেমার পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের কাজের নিরাপত্তা এবং তাদের পারস্পরিক সম্মতির বিষয়টি নিয়ে এর আগে ‘ডাই মাই লাভ’ নামের চলচ্চিত্রে নিজের সহকর্মী রবার্ট প্যাটিনসনের সাথে করা কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছিলেন লরেন্স। তিনি তখন পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন যে, ওই বিশেষ ছবিটিতে তাঁদের কাজের জন্য আলাদা করে কোনো ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য প্রশিক্ষক নিয়োজিত ছিলেন না, কিংবা যদি থেকেও থাকেন তবে পর্দার আড়ালে বা সামনে তাঁর কার্যকরী ভূমিকা খুব একটা জোরালো ছিল না। তবে অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসনের মতো পেশাদার সহশিল্পীর সাথে কাজ করতে গিয়ে তিনি পুরোটা সময় নিজেকে যথেষ্ট নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রাখতে পেরেছিলেন।
লরেন্সের কথামতো, সহশিল্পী প্যাটিনসন তাঁকে কাজের ফাঁকে কখনো কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেননি। বরং তাঁরা শুটিংয়ের বিরতিতে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, নিজেদের সন্তান এবং নানা সম্পর্কের জটিল সমীকরণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোশগল্প ও আলোচনা করতেন। তা সত্ত্বেও এই গুণী অভিনেত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যেকোনো সংবেদনশীল বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের কাজ করার সময় সহশিল্পীর সামগ্রিক আচরণ অত্যন্ত বড় একটি প্রভাব রাখে। কোনো অভিনেতা যদি তাঁর সহকর্মীর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করার অনাগ্রহ বা দ্বিধাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ধরে নেন, তবে পুরো কর্মপরিবেশ অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে। আর সেই কারণেই ঠিক এই ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে একজন দক্ষ ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের উপস্থিতি থাকাটা অত্যন্ত বেশি দরকারি।
‘ডাই মাই লাভ’ ছবির ভেতরের সেই আলোচিত নগ্ন দৃশ্যগুলোর ব্যাপারে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন লরেন্স। খোলামেলা বা নগ্ন হয়ে অভিনয় করা নিয়ে তাঁর মনে মূলত নিজস্ব কোনো ধরনের মানসিক অস্বস্তি বা রাখঢাক কাজ করে না বলে তিনি সবাইকে জানান। মূলত পরিচালকের নিজস্ব শিল্পীসত্তার পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখতেই তিনি স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই নির্দিষ্ট দৃশ্যগুলোতে কাজ করার জন্য নিজের সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন। ছবিটির দৃশ্য ধারণের পুরো সময়জুড়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, যার ফলে তাঁর নিজের শারীরিক গঠন কিংবা ওজন বৃদ্ধি নিয়ে আগের মতো বাড়তি কোনো দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ তাঁর মনে কাজ করেনি। ওই ছবিরই একটি বিশেষ দৃশ্যের ক্লোজআপ শট নিখুঁত করার সময় তাঁর শরীরের ত্বকের সেলুলাইট কিংবা শরীরের চামড়ার স্বাভাবিক ভাঁজগুলো আধুনিক সম্পাদনার মাধ্যমে পুরোপুরি মুছে ফেলার চমৎকার একটি প্রস্তাব তাঁর কাছে এসেছিল। কিন্তু অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স সেই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ না করে সরাসরি তা নাকচ করে দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর শরীর বাস্তবে ঠিক যেমনটি রয়েছে, ঠিক তেমনই যেন পর্দায় দেখানো হয়।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর