নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কৈশোরে বিদ্যালয়ের চৌহদ্দি পার না হওয়া এক সাধারণ কাচ কারখানার কর্মী ঝৌ কুনফেই পরবর্তী সময়ে গড়ে তোলেন বিশাল বাণিজ্য সাম্রাজ্য। জীবনের শুরুর দিকে মাত্র তেইশ বছর বয়সে নিজস্ব একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা চালুর মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি লেন্স টেকনোলজি নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুঠোফোনের ডিসপ্লের জন্য বিশেষ কাচের আবরণ উৎপাদনের বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেয়।
২০০৭ সালে বাজারে আসা অ্যাপলের সর্বপ্রথম আইফোনের ডিসপ্লে কভার সরবরাহের গৌরব অর্জন করার পর তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা নজিরবিহীনভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধের মধ্যবর্তী সময়ে লেন্স টেকনোলজির মূল বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রায় অর্ধেক আয় বা রাজস্ব আসত কেবল মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল থেকেই।
পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয় ঝৌয়ের এই প্রতিষ্ঠানটি। এই নিবন্ধনের ফলে ঝৌ কুনফেইয়ের ব্যক্তিগত সম্পদ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং ওই বছরই তিনি প্রথমবারের মতো চীনের সর্বাধিক ধনী নারীর মর্যাদা অর্জন করেন।
অবশ্য ২০১৮ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যসংঘাত এবং অ্যাপল পণ্যের বিক্রি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শঙ্কা তৈরি হলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্যে বড় পতন ঘটে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদেও। এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় লেন্স টেকনোলজি কেবল স্মার্টফোনের বাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং রোবটিকস খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে তাদের ব্যবসার পরিধি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে।
এরই ধারায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের তালিকাভুক্ত করে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তির দুনিয়ায় ঝৌয়ের প্রভাব ও অবস্থান আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ১৪ মে তারিখে রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আয়োজিত এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত ওই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ঝৌ কুনফেইয়ের বসার আসন নির্ধারিত হয়েছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক এবং শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের ঠিক মাঝখানে।
খোদ পুজিয়াং ইনোভেশন ফোরাম ২০২৬-এ দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ঝৌ কুনফেই মন্তব্য করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আধুনিক যুগে এসে শুধু প্রথাগত কম্পিউটিং সক্ষমতা কিংবা অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং পুরো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ভেতরেই অবিরাম ও ধারাবাহিক উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।
প্রখ্যাত হুরুনের তৈরি করা সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, চীনের শীর্ষস্থানীয় ৫০ জন ধনী নারীর প্রায় ৬৫ শতাংশই নিজেদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা স্বপ্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। এই স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তাদের সবার মিলিত মোট সম্পদের পরিমাণ এক অবিশ্বাস্য ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে গিয়ে ঠেকেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর