নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গার্মেন্টস খাতের কর্মীদের ভালো থাকা নিশ্চিত করতে এবং তাদের পাওনা বেতন কাঠামোর নতুন রূপরেখা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে এই কারখানার কর্মীদের চলমান বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশের নির্দিষ্ট কিছু জনপদে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রধান সরাসরি এই বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমপক্ষে ত্রিশ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হলে এই উচ্চপর্যায়ের সভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত বৈঠকে সরকারের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, সরকারপ্রধানের বিশেষ পরামর্শক এবং শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ সমন্বয়ক অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, কর্মীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদের কঠোরভাবে দমনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বার্তা মাঠপর্যায়ের সমস্ত বাহিনীকে এরই মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর যোগসাজশ রয়েছে এই গোলযোগের পেছনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে তাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য মাধ্যম জানিয়েছে, বেশ কদিন ধরেই পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল প্রশাসন। এটি কেবল সাধারণ কর্মীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন নাকি এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
পরবর্তী সময়ে সরকারের তরফ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে অনেককে আটকও করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারঘনিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন বেশ কিছু কারখানা সেদিন সকালেই বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানা যায়।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে চলমান এই আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের বহু নেতাকর্মী সরাসরি অংশ নিয়েছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় একটি ছাত্র সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলের স্থিরচিত্র অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।
ওই ঘটনার পর কালিয়াকৈর থেকে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নয়জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে একই অপরাধে আরও এগারোজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবারের দুপুরে শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সরকারপ্রধান। সেখানে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি এবং চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রমমন্ত্রী তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফর বাতিল করেন। এর আগে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নতুন বেতন কাঠামো গঠনের জন্য বোর্ড তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
শ্রমমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে এই বোর্ড গঠনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছিল। এরপরও কর্মীরা রাস্তায় অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, তাই তাদের দ্রুত কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর