নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
২০০৬ সালের দিকে আফ্রিকান রাষ্ট্র জাম্বিয়া ভ্রমণকালে অভিনেতা ম্যাট ডেমনের জীবনদর্শনের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সেই সফরে এক কিশোরীর সঙ্গী হয়ে পানি সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তাঁর চোখ খুলে দেয়, যেখানে তিনি অনুধাবন করেন যে প্রতিদিন কেবল পানির টানে মেয়েদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় এবং এই নিত্যদিনের কাজ তাদের শিক্ষা ও শৈশব উভয়ই গ্রাস করছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে তিনি ‘এইচটুও আফ্রিকা’ শিরোনামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে গ্যারি হোয়াইট নামক এক প্রকৌশলীর গড়া ‘ওয়াটার পার্টনারস’ সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে ডেমন আত্মপ্রকাশ করেন ‘ওয়াটার ডট ওআরজি’ নামের নতুন একটি উদ্যোগের।
তাদের এই সংস্থার মূল কাঠামোটি আবর্তিত হয় ওয়াটার-ক্রেডিট নামক প্রকল্পের চারপাশে, যা মূলত নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার ধারণার ওপর পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত।
ম্যাট ডেমন এবং তাঁর সহযোগী গ্যারি দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে দেখতে পান যে, অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন পানি জোগাড় করতে যে সময় এবং অর্থ অপচয় করে, তা একটি ক্ষুদ্র ঋণের নিয়মিত কিস্তির পরিমাণের চেয়ে ঢের বেশি।
ফলে কেবল অনুদান বা ত্রাণের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে তাঁরা দেশের ভেতরের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং দরিদ্র জনপদকে ক্ষুদ্র অঙ্কের ঋণ সহায়তা দিতে শুরু করেন।
এই ক্ষুদ্র আর্থিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ নিজেদের বাসগৃহে সরাসরি পানির নল কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণের সুযোগ লাভ করে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাট ডেমন তথ্য প্রকাশ করেন যে, তাদের এই ‘ওয়াটার ডট ওআরজি’ প্ল্যাটফর্ম এ যাবৎকালের মধ্যে একুশ মিলিয়নেরও অধিক ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করেছে।
वितরণকৃত এসব ক্ষুদ্রঋণের মোট আর্থিক অর্থমূল্য আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অর্জন।
এই সমস্ত ঋণের কল্যাণে প্রান্তিক পরিবারগুলো নিজেদের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে সক্ষম হচ্ছে।
ডেমনের প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থার হাত ধরে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় পঁচানব্বই মিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানি ও উন্নত পয়োনিষ্কাশন সুবিধার নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এসেছে।
কেনিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং পেরুসহ বিশ্বজুড়ে পনেরোটিরও অধিক রাষ্ট্রে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংস্থা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর