নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আনন্দমোহন কলেজের এক প্রফেসরের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শুনে জীবনে প্রথমবার অধ্যাপক হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক যতীন সরকার। শিক্ষাজীবন শেষ করার অভিজ্ঞতাচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, কলেজে অধ্যয়নকালে অধ্যাপক সুদেন্দ্র চক্রবর্তীর একটি বক্তৃতা তাঁর মনের গভীরে গভীর রেখাপাত করেছিল।
বক্তৃতায় সুদেন্দ্র চক্রবর্তী যেসব কথা বলেছিলেন, সুদীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসেও তা তাঁর স্মৃতিতে স্পষ্ট ও অম্লান রয়েছে। সেদিন শিক্ষ গুরুর সেই প্রাঞ্জল উপস্থাপনা শোনার পর তরুণ যতীন সরকারের মনে প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছিল যে, একজন কলেজ প্রফেসরের চেয়ে বড় এবং মর্যাদাবান পেশা পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না।
সেই নির্দিষ্ট দিনটিতেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে অবিচল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন যে তাঁকে যেকোনো মূল্যে ভবিষ্যতে অধ্যাপক হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়তে হবে। নিজের পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি মূলত একটি নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছিলেন।
দারিদ্র্যকে পুরোপুরি জয় করা বা তার সঙ্গে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই তিনি জানান। বরং অর্থাভাবের সঙ্গে এক ধরণের সহাবস্থান বা মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনের বাকি পথটুকু সাফল্যের সঙ্গে অতিবাহিত করে এসেছেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের সুপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন এবং একজন কলেজের অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করার পর অধ্যাপক হিসেবে এর চেয়েও বড় বা অধিক কিছু পাওয়ার উচ্চাশা তাঁর মনে কস্মিনকালেও উঁকি দেয়নি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করেন যে, কেবল প্রথাগত ‘অধ্যাপক’ হিসেবে নয়, বরং সামগ্রিক অর্থে একজন প্রকৃত ‘শিক্ষক’ হিসেবেই তিনি নিজের জীবনকে শতভাগ সার্থক বলে মনে করেন। শিক্ষকতার এই প্রাপ্তি ও সফলতাই তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নে তিনি আরও যোগ করেন যে, শিক্ষকতা পেশার এই অতুলনীয় প্রাপ্তি ছাড়া অন্য কোনো কিছুতেই তাঁর জীবনে এমন কোনো বিশেষ সার্থকতা লুকিয়ে নেই।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর