নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভুটানের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়সূচক গোল করার পর ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিমের চোখে জল চলে আসে। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দের সময়টাতেও তিনি নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। মাঠে দাঁড়িয়েই তাঁর মানসপটে ভেসে উঠছিল অতীতে পার করা অত্যন্ত কঠিন ও দুর্দিনগুলোর স্মৃতি। জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া এবং দলে থেকেও মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার সেই যন্ত্রণাদায়ক সময়গুলো তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ইব্রাহিম। তাঁর করা একমাত্র গোলেই ভুটানের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর থেকেই মাঠে তাঁর এই অশ্রু বিসর্জন নিয়ে সবার মনে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছিল।
আজ এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অনুশীলন শেষ করে গণমাধ্যমের সামনে কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করেন ইব্রাহিম। তিনি জানান যে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক সময় স্কোয়াডে থাকলেও মূল একাদশে খেলার সুযোগ পেতেন না। জালের বল জড়ানোর পর ওই দুর্বিষহ মুহূর্তগুলো তাঁর মনে তীব্রভাবে নাড়া দেয় এবং জীবনের খারাপ সময়গুলোর কথা মনে পড়ে যায়।
আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেও বদলি হিসেবে মাঠে নামার পূর্বে নিজের মানসিক প্রস্তুতি পুরোপুরি সেরে রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার সময় তিনি সাইডবেঞ্চে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে খেলা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ডি-বক্সে বল পৌঁছানোর মুহূর্তগুলো লক্ষ্য করার পাশাপাশি সুযোগ পেলে কীভাবে তা কাজে লাগাবেন, সেটার ছকও কষে রেখেছিলেন তিনি।
নিজের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে ইব্রাহিম উল্লেখ করেন যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল সঠিক জায়গায় অবস্থান করা, যাতে যেকোনো মুহূর্তে বল পেয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। আল্লাহর রহমতে সেই বলটি নিখুঁতভাবে ফিনিশ করতে পারলে গোল করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। মূলত ডি-বক্সের ভেতর কোন সময়ে বল তাঁর আয়ত্তে আসতে পারে, সেটাই তিনি নিবিড়ভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ দলের বড় সংকট হলো একজন নির্ভরযোগ্য ও স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে ইব্রাহিমকে সেই পজিশনে খেলানো নিয়ে ফুটবল মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কোচ যদি তাঁকে নাম্বার নাইন পজিশনে খেলাতে চান, তবে তিনি খেলতে রাজি আছেন কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম জানান যে তিনি অবশ্যই প্রস্তুত আছেন। সেন্টার ফরোয়ার্ড লাইনে সুযোগ পেলে তিনি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং যেকোনো পজিশনে খেলতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
এর আগে আসিয়ান কাপের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার কারণে দারুণ হতাশার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইব্রাহিম। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে তিনি ক্লাব ফুটবলে ভালো পারফর্ম করে পুনরায় জাতীয় দলে কামব্যাক করার পণ করেছিলেন। বাদ পড়ার পর খারাপ লাগলেও তাঁর বিশ্বাস ছিল ক্লাবে ভালো খেললে জাতীয় দলে আবারও সুযোগ মিলবে এবং সেই সুযোগ পেলে তিনি তার সঠিক সদ্ব্যবহার করবেন।
ভুটান ম্যাচের খেলায় যে সমস্ত ভুলত্রুটি ধরা পড়েছে, তা খুব দ্রুত শুধরে নিতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ দল। আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করে দলের জয়ে রাখতে চান ইব্রাহিম। তাঁর কাছে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, তাদের মূল এবং একমাত্র লক্ষ্য হলো দলের জয় নিশ্চিত করা।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর