নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন সঠিক ও গোছানো প্রস্তুতি। কলা ও আইন অনুষদের মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী এম এম নাফিউজ্জামান ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
বাংলা বিষয়ের ক্ষেত্রে কলেজের শুরু থেকেই মূল পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি লাইন খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। এর পাশাপাশি লেখক পরিচিতি ও পাঠ পরিচিতির ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। এইচএসসি স্তরের ব্যাকরণ অংশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মুখস্থনির্ভর রচনামূলক বিষয়গুলো নিয়মিত চর্চা করা উচিত। এতে ভর্তি পরীক্ষার আগের মুহূর্তে অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতিতে বোর্ড বইয়ের প্যাসেজগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ব্যাকরণের শক্ত ভিত্তি অর্জনের পাশাপাশি সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, বাগধারা, প্রবাদ এবং শব্দভাণ্ডার আগে থেকেই রপ্ত করতে হবে। এছাড়া নিয়মিত সাবলীল লেখার বা ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
মানবিক বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত গণিতের চাপ কিছুটা কম থাকে। তবে মৌলিক গণিত ও বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ অংশের জন্য অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির গণিতের ধারণা পরিষ্কার রাখা বাঞ্ছনীয়। সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে তথ্য ভুলে যাওয়ার প্রবৃত্তি বেশি দেখা যায়, তাই নিয়মিত তা পুনর্বিবেচনা বা রিভিশন করা আবশ্যক।
বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে যে বিষয়গুলোতে বারবার প্রশ্ন আসে, সেগুলোতে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। সফল এই শিক্ষার্থীর কোনো নির্দিষ্ট পড়ার রুটিন ছিল না। তবে তিনি প্রতিদিন বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান পড়ার নিয়মিত চেষ্টা করতেন।
পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে তিনি নিয়মিত বিষয় পরিবর্তন করে পড়তেন। কোচিংয়ের নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষাগুলোতে নিয়মিত অংশ নিতেন এবং দিনের পড়া সবসময় দিনেই শেষ করতেন। পড়াশোনার কিছু বিশেষ কৌশল অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
বই বন্ধ করে নিজের মনে পড়া বিষয়গুলো স্মরণ করার চেষ্টা করা একটি কার্যকর পদ্ধতি। মডেল টেস্টে যেসব প্রশ্নে ভুল হয়, সেগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে অনুশীলন করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন আগের পড়া বিষয়গুলো ঝালিয়ে নেওয়া দরকার।
পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন বুঝে পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করলে সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে কোনোভাবেই ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।
পরীক্ষায় তুলনামূলক পরিচিত ও সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে দিতে হবে। কোনো কঠিন প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা বোকামি হবে। ওএমআর শিট পূরণের সময় চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নেগেটিভ মার্কিং বা ঋণাত্মক নম্বর এড়াতে নিশ্চিত না হয়ে অনুমান করে কোনো উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর