নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় যে রংপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তাতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্যাক্টচেক বা অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ইন্টারনেটে প্রচারিত এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়।
প্রকৃতপক্ষে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় গত ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিওটিকেই বর্তমানে রংপুরের সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা হিসেবে অপপ্রচার বা ভুলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বাড়িতে একটি দরবার স্থাপন করে কার্যক্রম চালাতেন নুরুল হক। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কিছুকাল পর তিনি পুনরায় নিজের দরবারে ফিরে এসে সেখানে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যান। দীর্ঘ দিন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালনা করার পর গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর মৃত্যুর ওই দিন রাতেই পারিবারিক ও অনুসারীদের উদ্যোগে দুই দফায় জানাজা সম্পন্ন করা হয়। জানাজা শেষে তাঁকে মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে একটি বিশেষ কায়দায় মাটির নিচে নয় বরং ভিন্ন উপায়ে দাফন করা হয়েছিল।
সে সময় তাঁর তৈরি ওই কবরের বেদিটি মুসলিমদের পবিত্র কাবা শরিফের আদলে বিভিন্ন রঙে সজ্জিত করা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে নুরাল পাগলার মৃত্যুর পর তাঁর দাফন ও পরবর্তীতে মরদেহ উত্তোলনের এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে দেশের আরও কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকেও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তৎকালীন সেসব প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ঘটনাস্থল হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কথাই উল্লেখ করা হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর