ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলছে স্থপতি রফিক আজমের একক প্রদর্শনী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলছে স্থপতি রফিক আজমের একক প্রদর্শনী ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর ধানমন্ডির বিখ্যাত বেঙ্গল শিল্পালয়ের কামরুল হাসান প্রদর্শনকক্ষে বর্তমানে চলছে এক নান্দনিক একক প্রদর্শনী। আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ শিল্পায়োজনের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘থ্রেশহোল্ড: আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার’।

গত সপ্তাহের শুক্রবার ছুটির বিকেলের এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন দেশের প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট স্থপতি অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস এবং আরেক খ্যাতনামা স্থপতি জালাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে নিজের সামগ্রিক শিল্পভাবনা সবার সামনে তুলে ধরেন প্রদর্শনীটির মূল শিল্পী স্থপতি রফিক আজম। পুরো শিল্পকর্মগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কিউরেট বা সাজিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পীদ্বয় মাহ্‌বুবুর রহমান ও তাইয়্যেবা বেগম লিপি।

আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের দেখার জন্য এই প্রদর্শনীটি প্রতিদিন খোলা থাকবে। ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত যে কেউ এটি ঘুরে দেখতে পারবেন।

গ্যালারিতে পা রাখতেই মূল দেয়ালের বিশাল বোর্ডে নজর কাড়ে বিভিন্ন স্থাপত্যের নকশা। আর পার্শ্ববর্তী দেওয়ালগুলোজুড়ে সাজানো রয়েছে কালি ও কলমের সাহায্যে তৈরি বেশ কিছু চমৎকার রেখাচিত্র।

এই প্রদর্শনীর শিল্পী রফিক আজমের জন্মস্থান পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ এলাকায়। নিজের জন্মভূমির রূপান্তরের দৃশ্যগুলো তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তাঁর ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বর্তমানের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও গাছের অভাবজনিত রুক্ষ পরিবেশ। দালানের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুতের তারও বাদ যায়নি।

পুরান ঢাকার প্রাচীন সব ভবনের অংশ, কার্নিশ, নকশা করা খিলান এবং প্রাচীন প্রাচীরের নান্দনিক রূপ তাঁর রেখাচিত্রে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

শিল্পীর আঁকা রেখাচিত্রের ক্যানভাসে শোভা পাচ্ছে প্রবহমান নদীতীরের সারি সারি নৌকার চিত্র। তিনি নৌকার নানা ধরনের গড়ন ফুটিয়ে তুলেছেন।

সামনে, পেছন কিংবা পাশ থেকে দেখা নৌকার অবয়ব খুব নিখুঁতভাবে স্থান পেয়েছে তাঁর চিত্রকর্মে। সেই সঙ্গে প্রাচীন হাতে টানা রিকশা থেকে শুরু করে প্যাডেল রিকশাও তিনি এঁকেছেন।

ড্রয়িংয়ে আরও জায়গা পেয়েছে ডালপালা ছড়িয়ে থাকা ঢেউখেলানো গাছপালা। তাঁর জলরঙের কাজগুলো মূলত বিমূর্ত ধারার কাছাকাছি।

সেখানে আলো ও অন্ধকারের খেলা এক ধরনের রহস্যময়তা তৈরি করেছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বসতবাড়ি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের নকশাও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

স্থাপত্যগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে আলোকচিত্র ও ত্রিমাত্রিক মডেল রাখা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীঘেঁষে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত রাজধানীর বিশালতাও এতে ফুটে উঠেছে।

গ্যালারির মেঝের বড় একটি অংশজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে তাঁর নকশার খাতা ও খসড়া। লেখালেখির বিভিন্ন খাতা দিয়ে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় স্থাপনাশিল্প।

দক্ষিণ দিকের পুরো দেয়ালজুড়ে প্রদর্শিত হচ্ছে স্থপতি রফিক আজমের একটি তথ্যবহুল ভিডিও চিত্র। সেখানে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেন।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এটি তাঁর শিল্পীজীবনের তৃতীয় একক প্রদর্শনী। এর আগে ২০০৮ সালে তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

সেটির শিরোনাম ছিল ‘নেচার ইজ’। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ‘ওয়াটার ইন লাইট’ নামে তাঁর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তাঁর কাজ ও দর্শন নিয়ে ইতালির বিখ্যাত স্কিরা প্রকাশনা থেকে একটি বই বের হয়েছে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বইটি প্রকাশিত হয়।

সবুজ জীবনের স্থাপত্য বা ‘আর্কিটেকচার ফর গ্রিন লিভিং’ শিরোনামে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের ব্যাপক স্বীকৃতি রয়েছে।

ইউরোপীয় শীর্ষ স্থপতি বা ‘লিডিং ইউরোপিয়ান আর্কিটেক্ট’ পুরস্কারসহ তিনি বহু সম্মাননা পেয়েছেন। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মানিত করেছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ছয় দশক পর বাংলায় এল দ্য বেঙ্গলি নভেল

ছয় দশক পর বাংলায় এল দ্য বেঙ্গলি নভেল