ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উসমান খাজার বইয়ের তথ্য নিয়ে লেম্যানের অস্বস্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
উসমান খাজার বইয়ের তথ্য নিয়ে লেম্যানের অস্বস্তি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বহুল আলোচিত ২০১৮ সালের কেপটাউনের বল টেম্পারিং কান্ডের সেই পুরোনো ও ভরাট হওয়া ক্ষত পুনরায় জেগে উঠেছে। উসমান খাজার আসন্ন আত্মজীবনী বাজারে আসার প্রাক্কালে নতুন কিছু বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করার ঘোষণা দেওয়ায় বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তৎকালীন অসি কোচ ড্যারেন লেম্যান।

আসন্ন বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই কুখ্যাত টেস্ট ম্যাচে বল বিকৃতির বিষয়ে ড্রেসিংরুমের সবাই অবগত ছিলেন। তবে খাজার এমন চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের সঙ্গে কোনোভাবেই একমত পোষণ করেননি লেম্যান। বরং এই ধরণের বিষয়গুলো আত্মজীবনীতে তুলে ধরার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তাঁর ধারণা, এই বইয়ের বিনিময়ে খাজা অত্যন্ত মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এবিসি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের কাছে নিজের সাক্ষাৎকারে লেম্যান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে দলের সকলে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টি জানত বলে তাঁর মনে হয় না। যদিও শতবর্ষ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল বিকৃতির প্রচলন থাকার কথা তিনি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁর মতে এই প্রক্রিয়ার পদ্ধতিটাই মূল বিবেচ্য বিষয়।

আগামী মঙ্গলবার আলোর মুখ দেখতে যাওয়া খাজার ‘সবর’ নামক আত্মজীবনী নিয়ে নাইন নিউজপেপারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাটার জানিয়েছেন যে উক্ত ঘটনাটি কেবল গুটিকয়েক খেলোয়াড়ের ছিল না, বরং তাদের দলগত ব্যাপার ছিল।

তার ভাষ্যমতে, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফটের বাইরেও বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা ও তার সফল রূপায়ণ সম্পর্কে দলের অন্যান্যরাও জানতেন, যা এতদিন সবার আড়ালে ছিল।

শুধু কেপটাউন টেস্টই নয়, ওই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টকালেও বল টেম্পারিং নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও তার প্রয়োগ হয়েছিল বলে আরও একটি নতুন দাবি করেছেন খাজা, যা পূর্বে কখনো জনসমক্ষে আসেনি।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় টেস্টে বল বিকৃতি সংক্রান্ত কোনো আলোচনার কথা তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছেন লেম্যান। তাঁর পরিষ্কার ব্যাখ্যা অনুযায়ী ক্রিকেটীয় নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হলেও এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রিভার্স সুইং মোকাবেলার উপায় নিয়ে কথা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে বল টেম্পারিংয়ের কোনো প্রসঙ্গ তাঁর গোচরে ছিল না।

নিউজল্যান্ড টেস্টের তৃতীয় দিনে টেলিভিশন ক্যামেরায় ব্যানক্রফটের সিরিশ কাগজ ব্যবহারের দৃশ্য ধরা পড়ার পূর্বে এক কোচের সঙ্গে ব্যানক্রফটের আলাপ হয়েছিল বলে খাজার দাবি থাকলেও, খাজা নিজেই পরিষ্কার করেছেন যে সেই কোচ ড্যারেন লেম্যান ছিলেন না। তাছাড়া ব্যানক্রফটের সঙ্গে ওই ধরণের কোনো কথোপকথনের কথা নিজের স্মৃতির মণিকোঠায় খুঁজে পাননি লেম্যান।

ঘটনার দিন সাজঘরে উসমান খাজা সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে দলগতভাবে দায় স্বীকারের তাগিদ দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন থাকলেও, লেম্যানের তা স্মৃতিতে নেই। তবে তিনি সরাসরি অস্বীকারও করেননি, কারণ সেদিন মাঠে দুটি ভিন্ন ড্রেসিংরুম থাকায় বিভিন্ন স্থানে বৈঠক চলছিল এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও তাঁকে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, তৎকালীন সেই কেলেঙ্কারির দায়ে স্মিথ ও ওয়ার্নার এক বছর এবং ব্যানক্রফট নয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। সেই সময়ে দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা লেম্যান শেষ টেস্টের প্রাক্কালে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে সিরিশ কাগজ ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাঁর জানা ছিল না।

খাজার আত্মজীবনী প্রকাশের খবর আসায় অতীতের সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো আবার ফিরে আসায় মানসিকভাবে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন লেম্যান। তিনি জানান যে ঘটনার অব্যবহিত পর প্রায় চার মাস তিনি গৃহবন্দী ছিলেন এবং খাজার সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কোনো ধরনের যোগাযোগও হয়নি।

বইয়ের পাতায় এসব পুরোনো বিষয় পুনরায় ফিরিয়ে আনার নেপথ্যে নিছক বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে আছে বলে লেম্যানের দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁর মতে, বই সাধারণত বিক্রির উদ্দেশ্যেই রচিত হয় এবং খাজা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন এসব বলছেন; এমনকি তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে খাজা এসবের জন্য প্রচুর অর্থ পাচ্ছেন কি না তা তাঁর জানা নেই এবং হয়তো তিনিও ভবিষ্যতে একটি বই লিখবেন।

সবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জনসাধারণের কাছে লেম্যান পুনর্বার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে সেদিন তাঁদের ক্রিকেট দল সমগ্র দেশকে চরম হতাশায় ডুবিয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে ক্রিকেটপ্রেম ও দেশের স্বার্থে সকলেরই এখন অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লালমনিরহাটে কৃতি শিক্ষার্থী মাসরিকের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দিল

লালমনিরহাটে কৃতি শিক্ষার্থী মাসরিকের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দিল