নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন আমানত বা এফডিআর সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে জমা রাখার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বন্দরগুলোর রাখা মোট অর্থের প্রায় ২৯ শতাংশ রয়েছে বেসরকারি ব্যাংকে এবং ৭১ শতাংশ জমা রাখা হয়েছে সরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পরবর্তী সময়ে নীতিমালার পরিবর্তন এনে আমানত রাখার হার পঞ্চাশ শতাংশ বা ৫০-৫০ করা হয়েছে। মূলত এই সংশোধিত নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের আর্থিক তহবিল সংরক্ষণ করে আসছে বলে দাবি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিষয়টি নিয়ে আগামী বৈঠকে আরও বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে। বৈঠকে মূলত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা এই দুই বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
পর্যালোচনাধীন এসব অডিট আপত্তি আদায়, সমন্বয়, অবলোপন, প্রমার্জন, নিয়মিতকরণ ও ভূতাপেক্ষ অনুমোদনসহ নানান প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয়টি বৈঠকে খতিয়ে দেখা হয়। বিগত আমলে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও এ সময় আলোচনায় স্থান পায়।
অতীতের অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার ওপর জোর দেয় কমিটি। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ এবং যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়।
সরকারি তহবিলের যেকোনো ধরনের অপচয় কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ যাতে কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি না পান, সে বিষয়ে কমিটি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে। বর্তমান সরকারের শাসনকালেও যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পূর্ণভাবে বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করা হয়।
সভা থেকে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এ বিষয়ে একটি কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা প্রদান করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অনিয়মে জড়াতে না পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর