নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইরানি সহায়তায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের জোরালো প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। যদিও এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি এখনো অব্যাহত রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক নানা ঘটনা তাদের কৌশলগত ছক প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
চলতি মাসেই লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক আটক করা হয়। এমন কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়ে গোষ্ঠীটি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, উদ্ধারকৃত ওই সমস্ত বিস্ফোরক সামগ্রী মূলত তাদেরই মালিকানাধীন এবং প্রতিপক্ষ ইসরায়েলে হামলার উদ্দেশ্যে সেগুলো সুকৌশলে মজুত করা হয়েছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে হিজবুল্লাহর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং লেবাননের একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক ড্রোনে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই মূলত ওই বিস্ফোরকগুলো আলাদা করে জমিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি অর্জিত হওয়ায় হিজবুল্লাহকে তাদের অভ্যন্তরীণ কমান্ড এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নতুন করে সাজাতে হবে। লেবাননের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সংগঠনটির ভেতরের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অপর তিনজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাদের বয়ানে উঠে এসেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল শহর এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পর্বতমালা এলাকার মতো স্পর্শকাতর স্থানে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট ব্যবহারের মাত্রা সীমিত রাখার সুনির্দিষ্ট কৌশলের কারণে সংগঠনটির কিছু ইউনিট মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, ইসরায়েলের আধুনিক দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রপ্রযুক্তির আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করতে গিয়ে তাদের মারাত্মক জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননের ভূখণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তারা দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির ওপর ভরসা রাখছে। তাদের এই প্রযুক্তির কার্যপরিধিতে সশস্ত্র ড্রোন ছাড়াও অস্ত্রবহনে সক্ষম দূরনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভবিষ্যতে নতুন করে পূর্ণ মাত্রার সংঘাত মাথাচাড়া দিলে সেখানে হিজবুল্লাহ সরাসরি কোনো সামরিক ভূমিকা পালন করবে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য বা অবস্থান পরিষ্কার করেনি।
তবে সংগঠনটির নিজস্ব মিডিয়া সেল বা গণমাধ্যম দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, লেবাননের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে নতুন করে লড়াই কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের হাতে তারা কোনো ধরনের অজুহাত তুলে দিতে ইচ্ছুক নয়।
বিশেষ করে, এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো এই যে, নতুন সংঘাত বাঁধলে তাদের মূল সমর্থক জনগোষ্ঠীকে আবারও চরম বাস্তুচ্যুত হওয়ার করুণ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, যা হিজবুল্লাহকে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর