নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিগত বছরগুলোতে দেশের নানা প্রান্তে রাজনীতিবিদেরা ও তাঁদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে হাতিয়ারগুলো আইনিভাবে অনুমোদিত, যার ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সাধারণত দৃশ্যমান কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ২০২৩ সালের ২২ মে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাজনৈতিক জমায়েত শেষে তৎকালীন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পিস্তল হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু ব্যাখ্যা তলব করেই ক্ষান্ত হয়, অথচ তাঁর অস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি।
একই বছরের জুনে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাসাভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ অস্ত্রটি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করলেও, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে তা আবার মালিকের নিকট ফেরত দেয় এবং কোনো আইনি কড়া পদক্ষেপ নেয়নি।
পরবর্তীতে ওই বছরের অক্টোবরের শেষ দিনে রাজধানীর পল্লবীতে পোশাককর্মীদের আন্দোলন দমনের সময় মহানগর উত্তর যুবলীগের তৎকালীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে লাক্কুকে অস্ত্রহাতে দেখা যায়। তাঁর দুটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি পলাতক হন ও অস্ত্র জমা দেননি।
এছাড়া ২০২৪ সালের শেষ দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইলে তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালামের জামাতার দেহরক্ষী কামরুজ্জামান একটি বিক্ষোভ মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি নেতা আবদুল জলিল মিয়াজীর হাতে একটি বন্দুক দেখা গিয়েছিল।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ওই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি, যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি কারাগারে বন্দি হন। এর বাইরে ২০২৩ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি বিবাহ উৎসবে তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীমুল ইসলাম ছানা শটগান দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুটিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছিলেন।
তারও আগে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বগুড়া-৭ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর একটি অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি দাবি করেন যে অস্ত্রটি তাঁর নিজের নামে বৈধ এবং এই ঘটনায় তাঁর লাইসেন্স বাতিল বা অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের শাসনামলে ২০২৫ সালের ২৯ জুন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে গুলির ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তবে সে ঘটনায় ওই পর্যন্তই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল এবং কোনো বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে বাপ্পী নামের এক ব্যক্তির কাছে থাকা অস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সেটি যথাযথভাবে জমা রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে পুলিশ নতুন করে আর কোনো তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করেনি।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর