নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমানো একমাত্র সন্তান মনিরুল ইসলামের মরদেহ শেষ পর্যন্ত নিজ ভিটায় ফিরেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চিলমারীর চর এলাকার বাড়িতে কফিন পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা ইয়াসিন আলী ও তাঁর পরিবার এখন শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র ভাই ও সন্তানের মরদেহ বাড়িতে আসার পর থেকেই পাগলপ্রায় অবস্থা সবার। শোকে মুহ্যমান মা-বাবার আহাজারিতে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাকরুদ্ধ বাবা ইয়াসিন আলী জানান, অভাবের তাড়নায় ও সংসারটা সচ্ছলভাবে চালানোর একমাত্র ভরসা হিসেবে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে মনিরুলই ছিলেন একমাত্র ছেলে এবং সঙ্গে দুই মেয়ে রয়েছে। মনিরুল প্রবাস থেকে নিয়মিত যে টাকা পাঠাতেন, তা দিয়েই কোনো রকমে তাদের সংসার চলত। এখন এই বয়সে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর দুঃসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। কীভাবে এই মর্মান্তিক সংবাদ পেয়েছেন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মা জানান, মনিরুলের সঙ্গে থাকা লোকজন তাদের ফোনে জানান যে রাতে ঘুমানোর পর তাঁর ছেলে আর ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি।
পরদিন সকালে সহকর্মীরা তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঠিক কী কারণে তাঁর যুবতী সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো অন্ধকারে রয়েছেন এবং সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। সন্তানহারা মা বিলাপ করে প্রশ্ন রাখেন, তাঁর বুকের ধনকে হারিয়ে এখন কে তাঁকে 'মা' বলে ডাকবে এবং কে এই ভাঙা সংসার চালাবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর