নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ ও এর পেছনে কার কী দায় রয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত বা রায় জানা যাবে আগামী ডিসেম্বরেই। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মাত্র ৬০ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নেন এই মহান ফুটবলার। ওই সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার মতো জটিলতার কারণে তাঁর জীবনাবসান ঘটেছিল।
মস্তিষ্কে একটি সফল ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের উত্তর পার্শ্ববর্তী তিগ্রে অঞ্চলের একটি ভাড়া করা বাসায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখানেই আকস্মিকভাবে তাঁর বিছানা থেকে নিথর ও lifeless দেহ উদ্ধার করা হয়।
গত এপ্রিল মাসে এই আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রমের শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ এই শুনানির প্রক্রিয়ায় আদালত এ পর্যন্ত সত্তর জনেরও অধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
এই মামলায় অভিযুক্ত মোট সাতজন আসামির মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বারো বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদানের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। এদের মধ্যে মামলার মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক লুকে-র জন্যই সবথেকে বেশি অর্থাৎ বারো বছরের কারাদণ্ড প্রার্থনা করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলো, ম্যারাডোনার অত্যন্ত নাজুক শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে না রেখে একটি সাধারণ ব্যক্তিগত বাসায় সুস্থ করে তোলার নামে ঝুঁকির মুখে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগে আরও প্রকাশ পায় যে, ওই ভাড়াবাসায় রোগীর জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি ছিল। সেখানে হাসপাতালের মতো উপযুক্ত ও আরামদায়ক শয্যা, হৃদ্যন্ত্র সচল রাখার ডিফিব্রিলেটর কিংবা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য কোনো অ্যাম্বুল্যান্সেরও কোনো রকম ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
বিচার চলাকালে আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ অত্যন্ত জোরালো দাবি করেছেন যে, মৃত্যুর ঠিক আগের দিনগুলোতে ম্যারাডোনার চিকিৎসাসেবা ও শুশ্রূষার দায়িত্বে থাকা লোকজন তাঁর অতি গুরুতর শারীরিক জটিলতাগুলোকে কোনোভাবেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেননি।
চিকিৎসকদের এই দলটি জানায় যে, ম্যারাডোনার শরীরে ইতোমধ্যেই পানি জমে ফুলে গিয়েছিল, তাঁর হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হচ্ছিল এবং তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও মারাত্মক কষ্ট হচ্ছিল। এত সব স্পষ্ট বিপজ্জনক লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরও তাঁর চিকিৎসকরা দায়িত্বশীল কোনো যথাযথ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেই চূড়ান্ত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর