ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ইলিশ ধরতে বরগুনার জেলেদের প্রস্তুতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ইলিশ ধরতে বরগুনার জেলেদের প্রস্তুতি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মাছ শিকার করে জীবনিকা নির্বাহকারী বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের পরিবারে দীর্ঘ ২২ দিনের কড়াকড়ি শেষে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপার্জন বন্ধ থাকায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়া এসব শ্রমজীবী মানুষ এখন প্রহর গুনছেন গভীর সমুদ্রে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রূপালী ইলিশসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী শিকারের। তাদের বিশ্বাস, জালে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে যেমন বিগত দিনের ধারদেনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে, তেমনি পরিবারের নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদাগুলোও সহজে মেটানো যাবে।

তবে এই প্রত্যাশার মাঝেও দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা ও উৎকণ্ঠা। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগরে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন জেলেরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রবল প্রভাবে সমুদ্র উপকূল উত্তাল থাকায় অনেক ট্রলার এখনো গভীর পানিতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। ফলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও অনেক জেলের পরিবারের ভাগ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক অনিশ্চয়তা। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই ট্রলারগুলো মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। বরগুনা সদরের মৎস্য আড়ত মালিক মো. আফজাল হোসেনের ভাষ্যমতে, চলমান বছরে এখানকার প্রতিটি মৎস্য ব্যবসায়ী কমবেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিগত মৌসুমে এই ট্রলারগুলোর মাধ্যমে মোট তিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছিল। অথচ চলতি মৌসুমে সেই বিক্রির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র এক কোটি টাকায় নেমে এসেছে। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যবসার পেছনে বিনিয়োগ করে বর্তমানে তারা মারাত্মকভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জেলেদের সার্বিক সহায়তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময়কালে জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারি সাহায্যের চালের বরাদ্দ বাড়ানোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

মূলত মা ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাধাহীন রাখা এবং জাতীয়ভাবে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্যই এই টানা ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন যে, জেলেরা এখন সাগরে নেমে পর্যাপ্ত ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের দেখা পাবেন। এর ফলে তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা অনেকটাই লাঘব হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পুরো মৎস্য খাতে পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্গাপূজার সপ্তমী অঞ্জলি অনুষ্ঠান প

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্গাপূজার সপ্তমী অঞ্জলি অনুষ্ঠান প