নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাধারণত মেটার নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমে মৌলিক কোনো কনটেন্ট আপলোড করলে সেটির স্বত্বাধিকার সেই প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায় না, বরং স্রষ্টার কাছেই বহাল থাকে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সাপেক্ষে কোম্পানিটি ওই কনটেন্ট প্রদর্শন, সংরক্ষণ বা নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স লাভ করতে পারে। তবে উল্লেখ্য যে, এই ধরনের লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। একটি ছবি তৈরির বিশেষ এআই মডেলকে দক্ষ করে তুলতে হাজার হাজার কিংবা লাখ লাখ ছবি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে কোনো ভাষাভিত্তিক মডেলকে প্রশিক্ষিত করার কাজে বইপুস্তক, খবরের কাগজ, গবেষণামূলক নিবন্ধ, ব্লগ এবং বিভিন্ন অনলাইন আলোচনার বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অথচ এই উপাত্তগুলোর একটি বড় অংশেরই কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব সংরক্ষিত রয়েছে। মূল সৃষ্টিকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়াই এই উপাদানগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা আইনগতভাবে বৈধ কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে উৎপাদিত সব ধরনের শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট সংক্রান্ত জটিলতা একই রকম হয় না।
প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব কোনো আলোকচিত্রীর ছবির আদলে ছবি তৈরি করা হলে মূল ছবির স্বকীয় উপাদান কতটা অনুকরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া কোনো আসল মানুষের চেহারা কিংবা পরিচয় বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি স্বত্বা ও গোপনীয়তার প্রশ্ন জাগায়।
মেশিন লার্নিং বা এআই ব্যবহার করে এখন নতুন সুর, সংগীত ও কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে কোনো জীবিত শিল্পীর কণ্ঠ হুবহু অনুকরণ করে গান তৈরি করা হলে তাঁর কণ্ঠের অধিকার, পরিচিতি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে গানের লিরিক, সুর এবং মূল অডিও রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে উপন্যাস, কবিতা, সংবাদ প্রতিবেদন থেকে শুরু করে গবেষণার খসড়া পর্যন্ত তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু কোনো লেখকের মৌলিক বাক্যবিন্যাস, চরিত্রের রূপায়ন, কাহিনীর ধারা বা লেখার ভঙ্গি যদি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা হয়, তবে তা মৌলিকত্ব ও কপিরাইট ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকার পদ্ধতি বা শৈলী নকল করে নতুন চিত্রকর্ম প্রস্তুত করা যায়। তবে কোনো চিত্রশিল্পীর সামগ্রিক নান্দনিকতা বা নির্দিষ্ট শিল্পকর্মের উল্লেখযোগ্য অংশ নকল করা হলে তা কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি করে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আরও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, কপিরাইট, ব্যক্তি স্বত্বা এবং কণ্ঠস্বর কিংবা পরিচয়ের বাণিজ্যিক অধিকার কোনোভাবেই এক নয়। কোনো সৃষ্টি যদি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন নাও করে, তবুও বাস্তব মানুষের পরিচয় বা কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর