নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাপানি আইনপ্রণেতার দেওয়া বিবৃতির বাংলা বা ইংরেজি রূপান্তরে শীর্ষ নেতার নাম নিয়ে গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বার্তাটিতে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় জাপানি মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি মাইক্রোব্লগিং সাইটটির এআই প্রযুক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
জাপানের সাবেক মন্ত্রী ইয়সুতোশি নিশিমুরা সম্প্রতি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন। স্থানীয় ভাষায় লেখা ওই পোস্টের সঙ্গে যুক্ত বর্ণনায় বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তবে এই বার্তাটি যখন সামাজিক মাধ্যমটির স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র অনুবাদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইংরেজিতে রূপান্তরিত হয়, তখন সেখানে নামটির জায়গায় ভিন্ন একটি নাম চলে আসে। এই ত্রুটির ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম নেয় এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
পরে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও অনুবাদ যন্ত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে জাপানি মূল লেখাটির নির্ভুল অনুবাদে রহমান নামটির কথাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
এই ভুলের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ইংরেজি সংস্করণটির ছবি তুলে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করতে শুরু করেন। যদিও মূল বিবৃতির ভাষা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাপানি রাজনীতিক স্পষ্টভাবে রহমান পদবির নেতাই বোঝাতে চেয়েছেন।
সেই নির্দিষ্ট পোস্টের জাপানি উচ্চারণ বিশ্লেষণ করলে এর অর্থ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। সেখানে বলা হয়েছে যে, আলোচ্য মন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।
ওই বিবৃতির আরও উল্লেখ রয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশটির সঙ্গে গঠিত সংসদীয় মৈত্রী দলের শীর্ষ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন ওই মন্ত্রী। এই গোষ্ঠীটির সামগ্রিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তারো আসো।
বৈঠক চলাকালীন দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বার্তায় জানানো হয়। বিশেষ করে কর্মী তৈরির ক্ষেত্রসহ জাপানি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা।
জাপানি বার্তাটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে, বাংলাদেশ প্রায় সতেরো কোটি মানুষের বিশাল জনসংখ্যার একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নতুন রাষ্ট্র, যাদের সঙ্গে জাপান প্রথমবার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করতে সম্মত হয়েছে।
সবশেষে জাপানি মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, উভয় দেশের এই বন্ধুভাবাপন্ন সুসম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি দৃঢ় ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর