নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পনেরো সালের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় দুটি নতুন মনোরেল রুট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শহরের সামগ্রিক গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পরিধি অনেক বাড়বে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও উন্নত পরিবহন মাধ্যম হিসেবে নগরবাসীর যাতায়াত সহজতর করবে। যেসব অঞ্চলে প্রতিদিন মানুষের চলাচলের চাপ বেশি থাকে, সেখানে এই ব্যবস্থা বিশেষ সুফল বয়ে আনবে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই মনোরেল পথগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে চলমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোসহ বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের যাত্রীরা যাতে তাদের গন্তব্যের শেষ অংশে খুব সহজে পৌঁছাতে পারেন, তাতে এই আন্তঃসংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন নিয়মমাফিক পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজ চলছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন সূচকের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে দুটি পথ বেছে নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের চাহিদা, সম্ভাব্য উপকারিতা এবং আর্থিক বাস্তবতার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলের অবস্থা নিয়ে মডেলভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে জনচাহিদা নিরূপণ করেছে। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনার জন্য সেই সমস্ত তথ্য বুয়েটের পরামর্শকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মহানগর এলাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেল পথের সমন্বয় এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন এই প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী ছয় মাসের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি কোষাগার থেকে সাত কোটি সাতান্ন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষা পরিচালনার মূল লক্ষ্য হলো ঢাকায় মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন চালুর যৌক্তিকতা যাচাই করা। পাশাপাশি অন্যান্য গণপরিবহন কাঠামোর সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উপায় নির্ধারণ করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। হালনাগাদ করা সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় প্রায় উনআশি দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ মোট পাঁচটি মনোরেল পথের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্য থেকে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পথ তিন মাসের মধ্যে এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহন ব্যবস্থার এমআরটি লাইনগুলোতে ফিডার সেবা হিসেবে বাস চলাচলের সুযোগ যেসব এলাকায় সীমিত, সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে রুটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা হয়ে পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি পর্যন্ত পঁচিশ দশমিক দুই কিলোমিটার পথ। এছাড়া মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা পর্যন্ত চৌদ্দ দশমিক ছয় কিলোমিটার এবং রামপুরা থেকে ডেমরা পর্যন্ত দশ দশমিক তিন কিলোমিটার পথ রয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত এগারো দশমিক সাত কিলোমিটার এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর থেকে সাভার পর্যন্ত সতেরো দশমিক ছয় কিলোমিটার পথ এর অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত নয়টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮ এর কথা বলা হয়েছে। আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত দশটি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এর প্রস্তাব রয়েছে। পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ছয় বা এগারোটি স্টেশন সংবলিত মনোরেল-১৩ এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ গণমাধ্যমকে জানান, জনবহুল এলাকার জনসংখ্যা ও স্টেশনের সম্ভাব্য যাত্রী আকর্ষণ এলাকা তারা যাচাই করেছেন।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সমীক্ষায় পথের অবস্থান, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর স্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মনোরেল হলো এমন একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে নির্ধারিত গতিতে চলাচল করে। ঢাকার যেসব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের জায়গা কম এবং প্রচলিত অবকাঠামো তৈরি কঠিন, সেখানে এটি যাচাই করা হচ্ছে। এই সমীক্ষায় নির্মাণ খরচ, যাত্রী বহন ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা হবে। রাজধানীর যানজট কমানো ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর