নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভারতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শামির অবসরের সিদ্ধান্ত এবং তার ফিটনেস নিয়ে চলা নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টিম ইন্ডিয়ার সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী। দলে অবমূল্যায়ন ও উপেক্ষার শিকার হওয়া এই পেসারকে যথাযথ সুযোগ না দেওয়ায় নিজের হতাশা ঢাকেননি তিনি।
শাস্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, কেবল জিমেই ফিটনেস প্রমাণ করাই মূল কথা নয়; বরং মূল মাঠে নেমে বল হাতে কতটা সময় পারফর্ম করা যাচ্ছে, সেটিই একজন ক্রিকেটারের আসল ফিটনেসের মাপকাঠি।
তিনি মন্তব্য করেন, কোনো বোলার যদি ম্যাচের মাঠে নেমে টানা ১০ থেকে ১২ ওভার বল করার সামর্থ্য না রাখেন, তবে জিমে গিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। শামির মতো একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত পেসার দলের হয়ে লাগাতার বল করে যাওয়ার পরও তাকে প্রাপ্য সুযোগ না দেওয়ায় তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ঘরোয়া আসরে বাংলা দলের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন শামি। ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলা হলেও এই পেসার মাঠে নেমে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বারবার প্রমাণ করে গেছেন।
শাস্ত্রী গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শামির ফিটনেস নিয়ে নেতিবাচক অনেক খবর তাঁর চোখে পড়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, সে বাংলার হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলে ১৫ থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত বোলিং করেছে। একজন ক্রিকেটারের ফিটনেস প্রমাণের জন্য এর চেয়ে বেশি আর কী প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে?
অভিজ্ঞতার মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়ে শাস্ত্রী আরও বলেন, শামি যদি ভালো ফর্মে থাকে এবং আসন্ন আইপিএলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়, তবে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের কোনো অভিজ্ঞ পেসার হঠাৎ চোটে পড়লে দল বাধ্য হয়েই অভিজ্ঞতার খোঁজে নামবে। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বোর্ডের হাতে শামির মতো এমন একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে।
জাতীয় দলের নির্বাচকদের পক্ষ থেকে বারবার উপেক্ষিত হওয়ার পরও নিজের পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রেখেছিলেন মোহাম্মদ শামি। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে তিনি মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলে শিকার করেছিলেন অসাধারণ ৩৭টি উইকেট।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অভাবনীয় সাফল্য এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত ভারতের টেস্ট দলে তার কামব্যাকের পথ সুগম করার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর