নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন হঠাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
অচল হয়ে পড়া ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার বা চালক রফিকুল ইসলাম জানান, গতিশীল অবস্থায় হঠাৎ করেই ট্রেনটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং বহু চেষ্টার পরও তা পুনরায় চালু করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি।
এই আকস্মিক বিপর্যয়ের খবর তাৎক্ষণিকভাবে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় বলে জানান চালক রফিকুল ইসলাম, যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সচল উদ্ধারকারী ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
পরে লালমনিরহাট থেকে বিকল্প সচল ইঞ্জিন এনে সেটির সাহায্যে ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন ও পুরো ট্রেনটিকে টেনে পাটগ্রাম স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন পাটগ্রাম ও বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নুর আলম।
স্টেশন মাস্টার নুর আলম আরও জানান, দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা দেরির পর বেলা তিনটার দিকে বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পুনরায় ছেড়ে যায় এবং বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
ট্রেনটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ভোগান্তি তৈরি হয়, যার কথা উল্লেখ করে বুড়িমারীর উফারামারা গ্রামের যাত্রী মাহাবুব আলম জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ এক নারীকে চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যাওয়ার পথে এই অপ্রত্যাশিত বিপত্তিতে পড়েন।
অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে এমন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণে চরম উৎকণ্ঠার কথা প্রকাশ করে যাত্রী মাহাবুব আলম জানান, বাধ্য হয়ে এখন বিকল্প মাধ্যম হিসেবে অটোরিকশা কিংবা ইজিবাইকে চড়ে ভেঙে ভেঙে তাদের রংপুর পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।
এদিকে বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের পরিচালক মতিউর রহমান এই ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, মূলত অপ্রত্যাশিত কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির উদ্ভব ঘটার কারণেই ট্রেনটির ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ে এবং এর ফলে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর