ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিশ্ব অপেরা দিবসে মুখরিত সিডনি অপেরা হাউস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
বিশ্ব অপেরা দিবসে মুখরিত সিডনি অপেরা হাউস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গত রোববার সিডনি অপেরা হাউস প্রাঙ্গণে এক ভিন্নধর্মী ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন আপনজনদের সঙ্গে কোনো অনুষ্ঠান উপভোগ করার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ এসেছিলেন সঙ্গীদের নিয়ে মুঠোফোনে সেলফি ধারণ করতে। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই স্থাপত্যটিকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখছিলেন অনেক দর্শনার্থী। গত ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সেখানে গেলে এমন প্রাণোচ্ছল ও জনাকীর্ণ দৃশ্য চোখে পড়ে। মানুষের অবিরাম যাতায়াত এবং নানা সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সুপরিচিত এই অপেরা হাউস যেন এক নতুন প্রাণশক্তি লাভ করেছিল। বিশ্বের বহু মানুষের মানসপটে অপেরা বলতেই সিডনি অপেরা হাউসের পরিচিত চিত্রটি ভেসে ওঠে, অথচ এই মঞ্চশিল্পের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল ষোড়শ শতকের একেবারে শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে। প্রাচীন সেই শিল্পরীতিকে মহাসমারোহে উদ্‌যাপনের সেই বিশেষ দিনে সুরের মূর্ছনা ও উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল সিডনির এই ঐতিহাসিক এবং মর্যাদাপূর্ণ স্থাপনাটি।

এই বর্ণিল আয়োজনের অংশ হিসেবে সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান মঞ্চস্থ হয়, যার নাম ছিল গ্রেট অপেরা হিটস। এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি এবং বিজের মতো প্রখ্যাত সুরকারদের সৃষ্টি করা নামকরা সব গান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিবেশন করেন। একই সময়ে সিডনি অপেরা হাউসের কনসার্ট হলে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে মঞ্চস্থ হয় বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি।

ভবনের অভ্যন্তরীণ মিলনায়তনের চোখ জুড়ানো পরিবেশনা এবং এর বাইরে সমবেত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়—সব মিলিয়ে ওই দিনটির পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে জমে উঠেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আয়োজক জানান যে, ব্রডওয়েতে এই বিখ্যাত নাটকটি প্রথমবার মঞ্চস্থ হওয়ার সত্তর বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে মাই ফেয়ার লেডির এই বিশেষ পরিবেশনাটি নিয়ে আসা হয়েছে। এই প্রযোজনার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন সাধারণ ফুল বিক্রেতা নারী এলাইজা ডুলিটলের নাটকীয়ভাবে বদলে যাওয়ার জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। নাটকটিতে এলাইজা চরিত্রটিতে অত্যন্ত সফলভাবে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন এবং অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ন্যাথানিয়েল পার্কার। এই নাটকটির বর্তমান প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে মূলত জুলি অ্যান্ড্রুজের নিপুণ নির্দেশনায় ২০১৬ সালে প্রথম মঞ্চে আসা জনপ্রিয় অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে। এতে আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট এবং উডন্ট ইট বি লাভারলি?-র মতো অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় গানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দর্শকদের ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একটানা চলতে থাকবে।

বিশ্বখ্যাত দুই দিকপাল সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে এবং অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মবার্ষিকী স্মরণের উদ্দেশ্যে প্রতি বছরের ২৫ অক্টোবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিশ্ব অপেরা দিবস পালন করা হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ধারাবাহিক সূত্র ধরে ২০১৯ সাল থেকে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো–আমেরিকা যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালন করা শুরু করে। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে অপেরা শিল্পকে সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশেষ শিল্পরীতির প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলাটাই এর মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য। অপেরার বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর গল্পে সাধারণত মানুষের জীবনের ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো অতি চেনা আবেগ ও অনুভূতিগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে ফুটে ওঠে। পরিবেশনের ভাষা সম্পূর্ণ আলাদা হলেও সেই সর্বজনীন আবেগের সঙ্গে খুব সহজেই একাত্মতা প্রকাশ করতে পারেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শক। সুরের মূর্ছনা ও মর্মস্পর্শী গল্পের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের মানুষের এই কাছাকাছি আসার অসাধারণ বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসতে চায় বিশ্ব অপেরা দিবস। আয়োজকদের সুচিন্তিত মতামত অনুযায়ী, অন্যের মনের অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে এবং বিভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি আরও বেশি উদার মানসিকতা পোষণ করতে এই অনন্য শিল্পমাধ্যমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সার্বিক এই বর্ণিল উদ্‌যাপনের পাশাপাশি এবার অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করা মানুষদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তার বিভিন্ন কথা। জার্মানির প্রখ্যাত অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন যে, বিশ্বজুড়ে এখনো বহু অপেরাশিল্পী এবং কলাকুশলী অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ার সময় কোনো ধরনের পারিশ্রমিক না পাওয়া এবং একধরনের তীব্র আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে অপেরা শিল্পকে সঠিকভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে এই শিল্পীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং পেশাগত জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে গত রোববার সিডনি অপেরা হাউসে অত্যন্ত ব্যস্ততা ও নানা আয়োজনে ভরপুর একটি উৎসবমুখর দিন অতিবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠা এই সুপরিসর প্রাঙ্গণে নানা দেশ, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষ এসে সমবেত হয়েছিলেন। নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সমস্ত ভিন্নতা এবং ব্যবধান পেরিয়ে তারা সবাই মিলে একসঙ্গে উপভোগ করেছেন সুরের মূর্ছনা ও অসাধারণ অভিনয়শিল্পের দারুণ রস। উপস্থিত দর্শনার্থীদের কেউ ক্যামেরার লেন্সে বন্দী করে রেখেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো, আবার কেউ বা বাড়ি ফিরেছেন মঞ্চের সেই অপরূপ মুগ্ধতা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জাফলং চা বাগানে চা শ্রমিকদের মাঝে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জাফলং চা বাগানে চা শ্রমিকদের মাঝে