নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামস্থ বহদ্দারহাট শাখায় 'আরামিট সিমেন্ট' এর নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৫ মে উক্ত হিসাবটি ব্যাংকটির জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। একই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ব্যাংক বরাবর ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন।
উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ব্যাংকটির ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে সেই ঋণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, এরপরে ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে সর্বমোট ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রাহকের মাঝে বিতরণ করা হয়। এর ভেতর থেকে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বর্তমান মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করে 'ক্লাসিক ট্রেডিং' নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়।
এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ঋণ পাওয়ার জন্য যা যা নথিপত্র প্রয়োজন তার সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রস্তুতকৃত এসব নথিপত্রগুলোতে ক্লাসিক ট্রেডিংকে পণ্যের প্রকৃত সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্টকে সংশ্লিষ্ট পণ্য গ্রহণকারী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
দুদকের তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, বাস্তবে কোনো ধরনের পণ্য সরবরাহ না করেই সরবরাহের সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যসংবলিত কাগজপত্রে ব্যাংককে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।
জালজালিয়াতির এসব দালিলিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই বাই-মুরাবাহা ডিল অনুমোদন করিয়ে ঋণের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়।
পরবর্তীতে উত্তোলিত ওই সমস্ত অর্থ আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের নামে থাকা একাধিক ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবে অত্যন্ত সুকৌশলে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়।
সম্পূর্ণ এই অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার পাশাপাশি গুরুতর মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর