ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বন্দি ওয়াকিল হোসেন বগা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বন্দি ওয়াকিল হোসেন বগা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অতি সম্প্রতি তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ওয়াকিল হোসেন বগা। বিগত ১৮ অক্টোবর তারিখটিতে একটি বিশেষ মামলায় বিচারিক আদালতে নিজে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। কিন্তু বিচারক তাঁর সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তাঁকে কড়া নিরাপত্তায় জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেই নির্ধারিত দিন থেকেই তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক জীবন কাটাচ্ছেন।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর তারিখের একটি ঘটনার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির স্থায়ী বাসিন্দা শেখ মুহাম্মদ আরিফ বাদী হয়ে খুলশী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটিতে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি, বসতভিটায় অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও নানাবিধ ক্ষতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। উক্ত এজাহারে ওয়াকিল হোসেন বগাসহ মোট ৩৮ জন ব্যক্তির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করলে এই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধলব্ধ কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চাঁদাবাজি, হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালানো, বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহার এবং অবৈধ অস্ত্র বহনের মতো মারাত্মক সব অভিযোগে তাঁর নামে থানায় মোট ২৩টি মামলা ঝুলছে।

চলমান বছরের জুন মাসে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল করা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলির মতো ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন বগা। ওই ঘটনার তাত্ক্ষণিক ফলাফল হিসেবে গত ৮ জুন তাঁকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এই সাংগঠনিক শাস্তির পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়লেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দফায় দফায় অভিযান চালিয়েও তাঁকে নাগালের মধ্যে পেতে ব্যর্থ হয়।

সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে পাহাড়তলী কলেজের একজন সম্মানিত শিক্ষককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বগাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশ সদস্যরা তাঁর আস্তানায় অভিযান চালালে তাঁর সশস্ত্র অনুসারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথ অবরোধ করে। সেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় এবং পুলিশের একটি সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে। পুলিশের সঙ্গে চলা সেই তুমুল সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে তাঁর নিজস্ব বাসভবনের ভেতরে তৈরি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে তথ্য রয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতের বেলা খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক তরুণ কিশোরকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিশোর বয়সীরা সকলেই একটি এলাকার সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। মূলত ওই উঠতি বয়সিদের অপরাধ চক্রটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বগার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এসব ধারাবাহিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষাপটেও তাঁকে পাকড়াও করতে পুলিশ একাধিকবার সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের তুলনা অর্থহীন: শশী থারুর

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের তুলনা অর্থহীন: শশী থারুর