নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চলমান অস্থিতিশীল পরিবেশের পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজনৈতিক সহযোগীদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা রয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার ঠিক মধ্যদুপুরের দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সাধারণ শ্রমিকদের আইনসম্মত ও ন্যায়সংগত দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে ইতিপূর্বেই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধানও করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও দেশের বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হচ্ছে, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে এবং এমনকি একজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই মর্মান্তিক সহিংস কর্মকাণ্ডগুলোর সাথে কোনোভাবেই সাধারণ ও প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলনের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এসব নাশকতামূলক ঘটনায় যাঁদের ইতোমধ্যে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংবা যাঁদের বিরুদ্ধে উসকানিদাতা হিসেবে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বড় একটা অংশই আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে দাবি করেন রুহুল কবির রিজভী। একই সাথে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যোগ করে বলেন যে, শ্রমিক অসন্তোষ ও এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কলকারখানার মালিকপক্ষের যাঁদের হাত রয়েছে, তাঁদের আসল পরিচয়ও এখন ধীরে ধীরে জনগণের সামনে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
তৈরি পোশাক শিল্প খাতে এই ধরনের ধারাবাহিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য আসলে কী, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই দায়িত্বশীল নেতা। তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত অপশক্তি কি দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটাতে চাইছে? নাকি তারা অতীতে চালিয়ে যাওয়া সেই নৃশংস গুম ও খুনের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে?
আসছে আগামী ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উদ্যাপন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, এই গৌরবোজ্জ্বল দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে আগামী কাল শনিবার রাজধানী ঢাকায় একটি বিশাল কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবারের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করবে। এরপর মিছিলটি কাকরাইল, মালিবাগ ও বাংলামোটর হয়ে ফার্মগেট এলাকা অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সমাপ্ত হবে বলে তিনি জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশাল এই র্যালি ও শোভাযাত্রাকে ঘিরে রাজধানীতে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত সহিংসতা বা নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে রিজভী শতভাগ আশ্বস্ত করে বলেন যে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য বা অরাজকতা অত্যন্ত কঠোর হাতে মোকাবিলা করার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সক্ষম এবং সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণও যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে সবসময় সচেষ্ট ও জাগ্রত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক ফায়দা বা সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলের লোভে দেশে নতুন করে কোনো সংঘাতময় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক আগুনে ঘি ঢেলে কৃত্রিমভাবে উত্তেজনা ও সংঘাতের উসকানি দেওয়ার এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দিনশেষে সব পক্ষের জন্যই অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর