ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মনাকষা থেকে ঢাকায় পাড়ি ও তারুণ্যের স্মৃতিকথা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
মনাকষা থেকে ঢাকায় পাড়ি ও তারুণ্যের স্মৃতিকথা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রথম আলোর অনলাইন পাতায় পাঠকদের প্রেরিত লেখার অংশ হিসেবে স্থান পাওয়া এই গল্পটি এক তরুণের সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সর্বপশ্চিমের মনাকষা ইউনিয়ন থেকে ঢাকায় পাড়ি জমানোর অনন্য এক স্মৃতিকথা। সালটি তখন ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস। সেই সময়ে যুবকের বয়স প্রায় ১৯ ছুঁইছুঁই, কৈশোর পার করে তিনি সবেমাত্র তারুণ্যের সোনালী ধাপে পা রেখেছেন। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তাঁর মনে কোনো উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আর বিন্দুমাত্র ইচ্ছাই ছিল না। কিন্তু মাতা-পিতার জোরাজুরি এবং একরকম বাধ্যবাধকতার জালেই তাঁকে রাজধানী ঢাকায় এসে উপস্থিত হতে হয়।

বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর বাবা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা মার্টিন লুথার কিংয়ের মতো বিশ্বনন্দিত ব্যক্তিরাও আইনশাস্ত্রেই নিজেদের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছিলেন। বাবা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, সে যদি মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, তবে একদিন সেও তাদের মতো মহিমান্বিত হতে পারবে। একজন তরুণ তখন যে পড়াশোনা করার পক্ষেই ছিল না, তার কাছে এই সমস্ত গুরুগম্ভীর কথার বিশেষ কোনো মূল্য থাকার কথা নয়। তবুও তিনি পিতার কথার প্রতি সম্মান জানিয়ে সম্পূর্ণ চুপচাপ রইলেন এবং কোনো প্রতিবাদের পথ মাড়ালেন না।

ঢাকায় এসে তিনি সরাসরি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন বিভাগে নিজেকে তালিকাভুক্ত করলেন, যার গ্রিন রোডেই অবস্থিত ছিল মূল ক্যাম্পাস। এভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ঢাকা শহরের জীবনের রোমাঞ্চকর অধ্যায় সূচিত হলো। শুরুর দিকে তিনি কিছু দিন শাম্মী ও আরজু নামের দুই খালার বাসায় অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীতে এক পড়ন্ত বিকেলে তাঁরা দুজনে মিলে তাঁকে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার একটি পরিচিত হোস্টেলে এনে রেখে চলে যান। সেই ক্ষণ থেকেই ওই হোস্টেলটিই হয়ে উঠল তাঁর স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা।

হোস্টেলটির নিচতলায় মোট তিনটি কক্ষ ছিল যেখানে একসঙ্গে আটজন মানুষ বসবাস করতেন, অথচ তাদের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার ছিল মাত্র দুটি। সেখানকার একটি অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, বড় এবং তুলনামূলক পরিষ্কার শৌচাগারটি শুধুমাত্র হোস্টেলের জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্যই নির্দিষ্ট করা থাকত। সূচনালগ্নে পূর্ব রাজাবাজারের নির্দিষ্ট কবরস্থান গলি থেকে শুরু করে আনন্দ সিনেমা হলের মোড় পর্যন্তই ছিল তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র এবং এই সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর চেনা জানার সমগ্র পৃথিবী।

বিকেল কিংবা সন্ধ্যার সময়ে সিনেমা হলের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জমায়েত এবং তাদের যাতায়াত গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতেন। তিনি প্রায়শই দেখতে পেতেন যে, সিনেমা হলের সামনের উন্মুক্ত চত্বরে কয়েকজন মানুষ নানান ধরণের কৌতূহলোদ্দীপক খেলা দেখাচ্ছে। কখনো কখনো তারা সেখানে লোকসমক্ষে দুর্দান্ত জাদু প্রদর্শনী করত। চারপাশের সাধারণ মানুষ দলবেঁধে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে পরম উল্লাসে হাততালি দিয়ে সেই খেলা উপভোগ করত।

খেলাধুলো প্রদর্শনের পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে শুরু হয়ে যেত নানা ধরণের জটিল রোগের ওষুধ বিক্রির মহোৎসব, যার সঙ্গে বিক্রেতারা ঘোষণা করত বিভিন্ন রোগের সুস্থতার একেবারে শতভাগ গ্যারান্টি। আবার সাধারণ ক্রেতাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নিজে হাতে মাইক তুলে নিয়ে সবার উদ্দেশে জোড়ালো গলায় ঘোষণা করত যে, ওই নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করার ফলে তার প্রভূত উপকার সাধিত হয়েছে এবং তার দাম্পত্য জীবনও আগের তুলনায় অনেক বেশি সুখে ও শান্তিতে কাটছে।

সকল ধরনের কেনাবেচার পর্ব সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি এক অদ্ভুত দৃশ্য লক্ষ্য করতেন। তিনি দেখতেন যে, কিছুক্ষণ আগেই যারা ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, তারা সবাই মিলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসে চা পান করছে, খোশগল্পে মেতে উঠছে কিংবা লুডু খেলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এভাবেই রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকাটি তাঁকে ধীরে ধীরে চারপাশের বাস্তব দুনিয়ার মানুষ চিনতে দারুণভাবে পারদর্শী করে তুলছিল।

পূর্ব রাজাবাজারের সেই নির্দিষ্ট হোস্টেলে তিনি যে উঠেছিলেন, সেখানে নানা ধরনের অদ্ভুত কাণ্ডকারখানার কারণে খুব বেশি দিন নিজের টিকিয়ের রাখা সম্ভব হয়নি। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম তিনটি সেমিস্টার পার হতে না হতেই তাঁকে বাধ্য হয়ে মোট নয়বার হোস্টেল বদলাতে হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর পরিবর্তিত হওয়া প্রতিটি হোস্টেলই অবধারিতভাবে এই একই ফার্মগেট এলাকার সীমানার ভেতরেই অবস্থিত ছিল।

দিনের পর দিন তাঁর চেনাজানা ও পরিচয়ের পরিধি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করল। তিনি একে একে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার, সুপরিচিত প্রজাপতি গুহা, অপরূপ হাতিরঝিল, অভিজাত ধানমন্ডি এবং জাতীয় সংসদ ভবন নিজ চোখে চিনতে ও আয়ত্ত করতে শিখলেন। ফার্মগেটের সীমানা পেরিয়ে এভাবেই ঢাকার বিশাল মানচিত্রটি তাঁর চোখের সামনে একটু একটু করে আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হতে থাকল।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিংয়ের জমজমাট মৌসুম চলাকালীন সময়ে তিনি লক্ষ্য করতেন যে, মাত্র কয়েক মাসের জন্য ফার্মগেট এলাকার হোস্টেলগুলোর সিটের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত। রাস্তার অলিগলিতে তখন দেদারছে পোস্টার সাঁটানো হতো এবং দেওয়ালে লেখা থাকত, ‘ভাই, হোস্টেলে সিট লাগবে কি না?’ তাদেরই হোস্টেলে অবস্থানকারী একজন বড় ভাইয়ের মূল পেশা বা কাজই ছিল শহরের নতুন নতুন ছাত্র খুঁজে বের করে হোস্টেলে নিয়ে আসা; যার বিনিময়ে তাঁর নিজের থাকা এবং খাওয়ার খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হয়ে যেত।

এক পড়ন্ত বিকেলে সেই বড় ভাইয়ের সঙ্গী হয়ে তিনি যখন বাইরে বের হলেন, তখন তিনি স্বচক্ষে দেখলেন যে একজন সাধারণ ছাত্রকে কোনো একটি হোস্টেলে বসবাসের জন্য রাজি করাতে ঠিক কত রকমের কৌশল ও কথা বলতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হোস্টেলগুলোর চড়া ভাড়া আবার আগের অবস্থায় নেমে আসত এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসত।

পূর্ব রাজাবাজারের সেই প্রথম হোস্টেল ছেড়ে আসার পর তাঁকে যে বারবার আবাসন পরিবর্তন করতে হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় হোস্টেল জীবনের আরেকটি স্মৃতি অত্যন্ত গভীর। সেখানের একটি নির্দিষ্ট হোস্টেলে আম্বিয়া খালা নামের এক নারী নিয়মিত তাঁদের জন্য অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রান্না করতেন। একবার কোনো এক কারণে তাঁর মাসিক বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি প্রচণ্ড খুশি হয়ে নিজের উদ্যোগেই বিশেষ আয়োজন করে তাঁদের সবার জন্য অত্যন্ত সুস্বাদু পোলাও ও মাংস রান্না করে খাইয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, আম্বিয়া খালা প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে নিজের জন্য রান্না করা অতিরিক্ত তরকারি ওই তরুণের পড়ার টেবিলে নিয়ে আসতেন। তিনি নিষেধ করা সত্ত্বেও খালার সেই জেদ ও ভালোবাসা কখনো কমেনি। তিনি অত্যন্ত মায়াবী সুরে প্রায়ই তাঁকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইতেন, ‘মামা, তোমার শরীরডা এহন বালা আছে তো?’ এই ছোট ছোট স্নেহমাখা আচরণগুলো তাঁর কঠিন ঢাকাই জীবনকে অনেকটাই সহজ ও আপন করে তুলেছিল।

ক্লাস করা, নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া, টার্ম পেপারের উপস্থাপনা দেওয়া এবং বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে ২০২২ সালের প্রথমার্ধের দিকে তাঁর দীর্ঘ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সফল সমাপ্তি ঘটে। লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর পরই তাঁর জীবনের কর্মজীবন শুরু হওয়ার উপযুক্ত সময় চলে আসে।

পড়াশোনা শেষ করার পর গুলশান-২ এলাকার অত্যন্ত খ্যাতনামা একটি আইন চেম্বার থেকে তিনি কাজ করার একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কর্মক্ষেত্রটি ফার্মগেট এলাকা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ার প্রধান কারণে তিনি সেই লোভনীয় প্রস্তাবটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ প্লাজা এলাকার অত্যন্ত কাছে অবস্থিত অন্য আরেকটি চেম্বারে জুনিয়র হিসেবে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ ফার্মগেট থেকে হাতিরঝিল হয়ে সেই কর্মস্থলে যাতায়াত করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক ছিল।

এরও বেশ কিছুদিন পর তাঁর মনে হতে লাগল যে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবস্থার পেছনে তাঁর অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনি তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকায় একটি নতুন বাসা ভাড়া নিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নতুন বাসায় এসে ওঠার ঠিক ছয় দিন পরেই তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, সেই একই প্রতিষ্ঠানের আইন ও মানবাধিকার বিভাগে প্রভাষক পদে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি শিক্ষকতার সুযোগ লাভ করলেন।

যখন তিনি কুনিপাড়া থেকে প্রতিদিন গ্রিন রোডের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন, তখন তাঁর মনের কোণে এক অদ্ভুত দার্শনিক ভাবনার উদয় হতো। তিনি মনে মনে ভাবতেন যে, আসলে কি ফার্মগেট আমাকে কোনোদিন ছাড়তে চায় না, নাকি আমি নিজেই কখনোই এই ফার্মগেটকে ছেড়ে যেতে পারি না! তাঁর এই অন্তর্নিহিত অনুভূতিটি যেন ফার্মগেটের সঙ্গে তাঁর নাড়ির সম্পর্কেরই এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।

পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে গ্রিন রোড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করলেন। তাঁর সহধর্মিণী প্রথম দিকে এখানকার চিরচেনা অসহ্য যানজট দেখে প্রতিদিন কান্নাকাটি করতেন বটে, তবে সময়ের পালাবদলে তিনিও এই পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ অভ্যস্ত হয়ে উঠলেন। এমনকি সাম্প্রতিককালে তাঁরা ফার্মগেট এলাকা চিরতরে ছেড়ে আগারগাঁওয়ের নতুন ঠিকানায় চলে এসেছেন।

এলাকা পরিবর্তনের পরও স্মৃতির মোহ কাটেনি, কারণ এখন তাঁর স্ত্রী প্রায়শই নস্টালজিক হয়ে বলেন যে তাঁদের আগের গ্রিন রোড এলাকার জীবনযাত্রাই তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ছিল। তাদের ছোট ছেলেও মাঝে মাঝে নিজের ভাঙা ভাঙা মিষ্টি বুলিতে উচ্চারণ করে ‘ফামগেট’ আর ‘বাবা অফিস’ বলে ডাকে। সন্তানের মুখে এই কথাগুলো শোনার সময় তাঁর বুক গর্ব ও আনন্দে ভরে ওঠে এবং শুনতে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে।

২০১৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বাংলাদেশের অসংখ্য শহর ঘুরে দেখেছেন এবং তাঁর সুদূর ভবিষ্যতের কর্মজীবনে হয়তো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহু বিদেশের শহরেও তাঁর পা পড়ার সুযোগ আসবে। তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রাজধানী ঢাকার এই ফার্মগেট এলাকা তাঁকে এমন কিছু অমূল্য জীবনশিক্ষা ও টিকে থাকার কৌশল শিখিয়ে দিয়েছে, যা সম্বল করে তিনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের অচেনা শহরেই মোটামুটি সফলভাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত

সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত