ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শনিবার দেশে ফিরছে সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ প্রবাসীর মরদেহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
শনিবার দেশে ফিরছে সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ প্রবাসীর মরদেহ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের একটি সোফ প্রস্তুতকারী কারখানায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃতদেহ আগামীকাল শনিবার সকালের দিকে প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে সংঘটিত ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শিকার হওয়া দুর্ভাগা এই শ্রমিকদের মরদেহগুলো দীর্ঘ অপেক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে স্বজনদের কোলে ফিরে আসছে। গত ৯ আগস্ট সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ষোলোজন বাংলাদেশি কর্মী ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয়। এর আগে গত আগস্ট মাসের সাতাশ তারিখে প্রথম দফায় নয়টি মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের মরদেহ এতদিন সৌদি আরবেই সংরক্ষিত ছিল। দীর্ঘ ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন তাদেরও ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এই দলটিতে থাকা পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায় এবং অন্য দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায় নির্ধারিত হয়েছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে শনিবার সকাল আটটা বেজে পাঁচ মিনিটে এই সাতটি কফিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে অবতরণ করবে। মন্ত্রণালয় থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী দাফন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইংয়ের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী স্বাক্ষরিত প্রেরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় মৃতদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করতে হয়। সেখান থেকেই পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত ফ্লাইটের মাধ্যমে মরদেহগুলো ঢাকায় প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অন্যান্য জনশক্তি দপ্তরগুলোতে এই নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, মৃত প্রবাসীদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের কাছে এই সংবাদটি যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলো এখন তাদের প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।

প্রায় আড়াই মাস পার হয়ে যাওয়ার পর নিহতদের দেহ স্বজনদের কাছে ফিরে আসার খবরে শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারগুলো। স্বজনহারা বেদনা আর মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুল প্রতীক্ষার এক অদ্ভুত মিশ্রণ তৈরি হয়েছে শোকার্ত পরিবারগুলোতে। নওগাঁর পারনওগাঁ তাজের মোড় এলাকার শাহিনের স্ত্রী পারভীন নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেছেন, স্বামী হারানোর গভীর ক্ষত কখনো শুকানোর নয়, তবে মরদেহটা দেশে ফিরলে সন্তানেরা অন্তত তাদের বাবার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পাবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পোশাক খাতে ইউনিক্লোর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান তারেক রহমানের

পোশাক খাতে ইউনিক্লোর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান তারেক রহমানের