নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত সত্য উন্মোচনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিহতের পরিচিত এক তরুণকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। ওই তরুণের দেওয়া বিবরণের সূত্র ধরে উত্তরার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে একটি কালো রঙের বাহন জব্দ করা হয়েছে। যা নিখোঁজ ওই যুবকের ব্যবহারের বাহন বলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা। রাজধানীতে তুরাগ নদ থেকে তরুণ সাবেক সেনা বিমান কর্মকর্তার মৃতদেহ পাওয়ার দুই দিন অতিক্রান্ত হলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার করতে পারেনি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার প্রাক-সন্ধ্যায় নিজের আবাসন থেকে বাইরে গিয়েছিলেন ওই সাবেক কর্মকর্তা। পরবর্তীতে গভীর রাতে মাতার উদ্দেশ্যে মুঠোফোনে দ্রুত ঘরে ফেরার বার্তা পাঠালেও তিনি আর গন্তব্যে পৌঁছাননি। পরের দিন বিকেলে নদী থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমাবস্থায় অজ্ঞাত হিসেবে দেহটি পাওয়া গেলেও সাথে থাকা মুঠোফোনের সুবাদে তাঁর সঠিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
ঘটনার বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে একাধিক গোয়েন্দা দল ও নদী পুলিশ যৌথভাবে এই আকস্মিক মৃত্যুর ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মৃত তরুণকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর জনক। সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ অনুসন্ধান চালানো হলে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই কর্মকর্তা নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে ধরা পড়েছিলেন। নিজের আবাসনের নিচে পরিচিত একজনের সাথে তাঁকে দেখা যায় এবং তাদের মধ্যে কুশল বিনিময়ের পর পৃথক বাহনে তারা স্থান ত্যাগ করেন। যেহেতু এই তরুণ নিখোঁজ হওয়ার পূর্বে তাঁর পরিচিত এই ব্যক্তির সাথেই বাইরে গিয়েছিলেন, তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদকালে ওই তরুণ দাবি করেছেন যে তাঁরা ঘটনাস্থলে আলাপচারিতাকালে কিছু লোক তাদের ধাওয়া করে। এরপর সাবেক কর্মকর্তা নদীতে লাফ দেন এবং তিনি নিজে সেখান থেকে কোনোমতে পালিয়ে যান। ধাওয়া কারীরা পুলিশের সদস্য ছিল বলে তার দাবি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থলটি একটি মাদক ব্যবসার পরিচিত স্থান হওয়ায় মাদক কারবারি কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ধাওয়ার মুখে পড়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওই সাবেক কর্মকর্তা ডুবে মারা যেতে পারেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, আটককৃত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন যে উর্দি পরিহিত দুজন কর্মকর্তা তাঁদের ধাওয়া করলে তাঁরা দুই দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে ওই ব্যক্তিরা আসলেই কারা ছিলেন এবং সাবেক কর্মকর্তার ব্যবহৃত বাহনটি সেখানে কীভাবে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন তথ্য প্রদান করায় তাঁর প্রতিটি বক্তব্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির দেওয়া বিবরণের ওপর ভিত্তি করে নদী তীরবর্তী বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো সুজুকি বাহন উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা যে বাহনে চড়ে বাসা ছেড়েছিলেন, সেটিরও কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। সরকারি কার্যালয় থেকে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বাহনটির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।
গত শুক্রবার দুপুরে পিবিআই ও নদী পুলিশের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে।
তদন্ত দলের সদস্যরা জানান, সাবেক কর্মকর্তা যখন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন, তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ধাওয়ার মুখে তাঁর পরিচিত তরুণটি একটি সীমানা পিলারের আড়ালে আশ্রয় নেন এবং সাবেক কর্মকর্তা পানিতে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ওই তরুণ নিজ গৃহে ফিরে যান।
পরিদর্শন শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা দুজনে সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর উর্দি পরা লোকজনকে দেখে আলাদা দিকে দৌড় দিয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে কতক্ষণ অবস্থান করেছিলেন, সে বিষয়ে আটক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত দলটি নিহতের নিজ বাসগৃহে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। নিহতের পিতা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সময় নিয়ে পরবর্তীতে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর