ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দীপের রিমান্ড শুনানিতে এজলাস ছাড়ার নির্দেশ সাংবাদিকদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
দীপের রিমান্ড শুনানিতে এজলাস ছাড়ার নির্দেশ সাংবাদিকদের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

উত্তরখান থানায় দায়ের করা একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক তরুণের রিমান্ড শুনানির সময় প্রকাশ্য এজলাসে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিচারক। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরুর ঠিক আগে গণমাধ্যমকর্মীদের কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন বিচারিক হাকিম।

শুনানির শুরুতে বিচারক এজলাসে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে কক্ষটি খালি করার নির্দেশ দেন এবং জানান যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাই গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন। বিচারকের এমন নির্দেশের পর সংবাদকর্মীরা এজলাসের পেছনের অংশে গিয়ে অবস্থান নিলে ওই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয়।

এই ঘটনার আইনি দিক নিয়ে আলোচনা করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু জানান যে এটি কোনো ক্যামেরা ট্রায়াল বা রুদ্ধদ্বার বিচার ছিল না, বরং এটি একটি উন্মুক্ত বিচারিক প্রক্রিয়া যেখানে গণমাধ্যমকর্মীসহ সাধারণ মানুষেরও উপস্থিত থাকার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উন্মুক্ত আদালতে থেকে তারা বিচারকাজের সঠিক তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেন, তাই তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশনা সঠিক ছিল না।

কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন খান নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে দীর্ঘকাল ধরে আদালত চত্বরে দায়িত্ব পালনকালে অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলার শুনানিতেও তাঁরা এজলাসে উপস্থিত থেকেছেন, কিন্তু বিচারকের এমন অপ্রত্যাশিত আচরণ আগে কখনো দেখেননি। আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের পরপরই গণমাধ্যমকর্মীদের পরিচয় জানার পরেও তাঁদের কক্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও হতাশাঞ্জক একটি ঘটনা।

এদিকে আজকের শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন অভিযুক্ত তরুণকে নতুন করে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে প্রথম ধাপের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র প্রদান করলেও বহু প্রশ্নের ক্ষেত্রে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নীরবতা পালন করেছেন এবং কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, ফলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা আবশ্যক।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানান যে রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষ না হতেই নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নেই। তবে তিনি এই মুহূর্তে জামিনের কোনো আবেদন দাখিল করেননি বলে আদালতকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আদালতকে জানান যে তদন্ত কর্মকর্তা নিহত ব্যক্তির সঙ্গে আসামির যোগাযোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন যা যাচাই করা জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, পারস্পরিক কথোপকথন এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশের গোেন্দা সংস্থাবিহীন ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য আসামিকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ বিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের তিন দিনের নতুন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করেন। এর আগে একই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য যে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে গ্রেপ্তারকৃত দীপের আমন্ত্রণে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এর ঠিক পরের দিন বিকেলে রাজধানীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে নৌ পুলিশ তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে এই মৃত্যুর ঘটনার জন্য নিহতের পিতা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওবামার নীতি নিয়ে প্রগতিশীলদের প্রশ্ন, পুরনো রেকর্ড নিয়ে বিতর

ওবামার নীতি নিয়ে প্রগতিশীলদের প্রশ্ন, পুরনো রেকর্ড নিয়ে বিতর