নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পাখি শিকারের সময় নিষেধ করায় শহিদুল ইসলাম নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াশ গ্রামে এই হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়। ঘটনার পরপরই আহত ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত শহিদুল ইসলাম সিংড়ার বিয়াশ গ্রামের জশমত আলীর সন্তান এবং পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত হামলাকারী সজীব হোসেন একই গ্রামের ছায়িম হোসেনের ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন মুঠোফোন ব্যবসায়ী। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবকের পরিবার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিবরণে জানা যায়, বিয়াশ গ্রামের সজীব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এয়ারগান ব্যবহার করে স্থানীয় বিভিন্ন জলাশয় ও পুকুর থেকে পানকৌড়ি পাখি শিকার করতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি একটি পুকুর থেকে চারটি পানকৌড়ি মেরে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনি আরেকটি পুকুরে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে গেলে শহিদুল ইসলাম তাঁকে এই কাজে বাধা দেন।
বাধা দেওয়ার ফলে তাঁদের দুইজনের মধ্যে তীব্র কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সজীব হোসেন এবং তিনি শহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সজীব তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা শহিদুল ইসলামকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর শহরের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শরীরে এক্স–রে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অভিযুক্ত সজীব প্রায়ই এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করতেন এবং ঘটনার দিন তাঁকে নিষেধ করায় তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়, যার জেরে সজীব তাঁর পেটে গুলি চালান।
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, শহিদুলের বুক ও পেটের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এক্স–রে পরীক্ষায় সেখানে কোনো পিলেট বা ছররা গুলি দৃশ্যমান হয়নি। যেহেতু ভুক্তভোগী এয়ারগান দিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা বলছেন, তাই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় এক্স–রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সজীব হোসেন পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং এয়ারগান দিয়ে গুলি ছোড়ার তথ্য পেয়েছেন। শহিদুলের স্বজনেরা বর্তমানে চিকিৎসাকাজে ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ করতে আসেননি, তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আহত শহিদুলের ভাতিজা ফরিদ উদ্দিন বিকেল চারটার দিকে জানান, তাঁর চাচার ডান পাঁজরের ভেতরে এখনো একটি গুলি আটকে রয়েছে এবং চিকিৎসকরা সেটি বের করার জন্য অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবস্থার অবনতি দেখে হামলাকারী পালিয়ে গেছেন এবং তাঁরা চিকিৎসাকাজ শেষে দ্রুতই থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর