ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দৈনিক ১৫ হাজার সাবান উৎপাদন, পরিদর্শন জুলি বিশপের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দৈনিক ১৫ হাজার সাবান উৎপাদন, পরিদর্শন জুলি বিশপের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার থাইংখালী এলাকার ২০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অবস্থিত একটি বিশেষ কারখানায় দৈনিক প্রায় ১৫ হাজার পিস সাবান তৈরি করা হচ্ছে। শরণার্থীদের শৌচাগার ও কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই সাবানগুলো সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে। গত জানুয়ারি মাসে কার্যক্রম শুরু হওয়া এই উৎপাদনকেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ সাবান প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এটি পরিচালনায় যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

এই সাবান তৈরির কারখানাটির মান এবং পুরো উৎপাদন পদ্ধতি নিজে চাক্ষুষ করতে সেখানে একটি বিশেষ সফর করেছে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তাঁরা উখিয়ার ওই নির্দিষ্ট আশ্রয়শিবিরের কারখানাটিতে উপস্থিত হন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালস এই কারখানাটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।

এর আগে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানে চড়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিরা। সেখান থেকে তাঁরা গাড়িযোগে সড়কপথে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে রওনা দেন। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে কারখানা প্রাঙ্গণে পৌঁছে তাঁরা সাবান তৈরির কাঁচামাল, উৎপাদনধারা এবং উৎপাদিত পণ্যের মান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেন।

এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উক্ত পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসোনি, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের কার্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ের কর্মকর্তা ডানকান উইলসন এবং সহযোগী জনতথ্য কর্মকর্তা পিয়া থেট চায়েল।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের কাছে সাবান তৈরির নানা কৌশল, কারখানার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং এই প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী। একই সঙ্গে কারখানার নিযুক্ত রসায়নবিদও সাবান তৈরির নানা কলাকৌশল ও কেন্দ্রের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের সামনে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। এরপর বিকেলের দিকে প্রতিনিধিদলটি ঢাকার উদ্দেশে উখিয়ার আশ্রয়শিবির ছেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএমের কারিগরি সহায়তা এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) আর্থিক অনুদানে পালসের অংশীদারত্বে এই কল্যাণমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সামাজিক সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করা।

এ প্রসঙ্গে পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই আশ্রয়শিবিরে সাবান তৈরির কারখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। সেখানে বর্তমানে ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মী প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার পিস সাবান তৈরি করছেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে লন্ড্রি ও টয়লেট—এই দুই ক্যাটাগরির সাবান তৈরির পর তা আইওএমের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আইওএম সেই সাবানগুলো বিনা মূল্যে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করে থাকে এবং এ পর্যন্ত উৎপাদিত প্রায় সাত লাখ সাবানই শরণার্থীদের মধ্যে সফলভাবে বিলি করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বোমাতঙ্কে তেল আবিব-ভিয়েনা ফ্লাইট বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

বোমাতঙ্কে তেল আবিব-ভিয়েনা ফ্লাইট বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ