ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তীব্র দাবদাহে ইউরোপে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বাড়ছে প্রাণহানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
তীব্র দাবদাহে ইউরোপে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বাড়ছে প্রাণহানি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

তীব্র উষ্ণতার প্রভাবে মহাদেশটির বিভিন্ন জনপদে প্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাবানলের লেলিহান শিখায় বহু বসতি ছাই হয়ে গেছে, চিকিৎসালয়গুলোতে ভেতরের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে, চলাচল ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং বরফ জমানোর যন্ত্র বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার হিম করার ক্ষমতা বিকল হয়ে গেছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের গবেষণাপত্রের রচিয়তা উলরিখ এবারলে প্রকাশ করেছেন যে, তীব্র গরমের জেরে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকভাগে ফ্রান্সের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি শূন্য দশমিক দুই শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। একই সময়সীমায় জার্মান রাষ্ট্রের অর্থনীতি শূন্য দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনেও এই গরমের নেতিবাচক প্রভাব ছিল শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের যৌথ গবেষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মোট ত্রিশটি রাষ্ট্র এবং আটান্নটি শহরকে যুক্ত করা হয়েছে। আলোচিত এসব এলাকার মোট জনমানুষের সংখ্যা ওইসব দেশের সর্বমোট জনসংখ্যার প্রায় চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি।

উক্ত গবেষণাকর্ম থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, জলবায়ু ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ উষ্ণতাজনিত প্রাণহানির পরিসংখ্যান কালের পরিক্রমায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কয়লা ও তেলজাতীয় জ্বালানি দহনের ফলে তৈরি হওয়া গ্যাস উষ্ণতার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুই হাজার তিন সালের মৌসুমে অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ শতাংশের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি দায়ী ছিল। বর্তমান গ্রীষ্মকালীন সময়ে সেই অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে এসে ঠেকেছে।

উষ্ণতার কারণে ঘটিত মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ। কারণ সাধারণ মানুষ সাধারণত সরাসরি তীব্র রোদের মুখোমুখি হয়ে মারা যায় না। বরং অতিরিক্ত উষ্ণতা শরীরের ভেতরে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করে এবং পূর্বে থেকেই শরীরে বিদ্যমান বিভিন্ন অসুস্থতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে যারা হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের জটিলতায় ভোগেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়েন।

চিকিৎসালয়ের বাইরে কোনো মানুষের শরীরের ভেতরের উষ্ণতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করাও বেশ কঠিন। কোনো ব্যক্তি যদি নিজ গৃহে একা মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার জীবনাবসানের পেছনে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা সবসময় স্পষ্ট হয় না। এই কারণে উষ্ণতাজনিত মৃত্যুর বহু ঘটনা রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানে সেভাবে তালিকাভুক্ত করা হয় না।

গত বুধবার একটি গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু হার্টল মন্তব্য করেন, আমরা সচরাচর লক্ষ করি যে প্রবীণ রোগীরা দিশা হারিয়ে ফেলছেন, তাদের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটছে কিংবা হৃৎপিণ্ডের নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পারিপার্শ্বিক উষ্ণতা জীবনহানির পেছনে গভীর প্রভাব রাখতে পারে। তিনি আরও যুক্ত করেন যে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেও কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত উষ্ণতার মধ্যে অবস্থান করছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গ্যাস সংকট ও উচ্চ সুদে বাধাগ্রস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিল্পায়ন

গ্যাস সংকট ও উচ্চ সুদে বাধাগ্রস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিল্পায়ন