নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আজ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সকাল আটটা থেকে দেশের মোট ১২টি ক্যাডেট কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই আবেদন করার সুযোগ বহাল থাকবে।
চাহিবামাত্র যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে www.cadetcollege.army.mil.bd অথবা cadetcollegeadmission.army.bd নামক দুটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ষষ্ঠ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নাম লেখাবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত আবাসিক এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের জন্য নেতৃত্ব দানের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক সামরিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। বর্তমানে সমগ্র দেশে ছেলেদের জন্য নির্ধারিত মোট নয়টি এবং মেয়েদের জন্য তিনটিসহ সর্বমোট বারোটি ক্যাডেট কলেজ সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণি কিংবা সমমানের কোনো পরীক্ষায় পাস করার শর্ত। একই সাথে আবেদনকারী শিক্ষার্থী এবং তার মাতা-पिता উভয়কেই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ১৩ বছর ছয় মাসের বেশি হতে পারবে না।
প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতার মাপকাঠিতে উচ্চতা অন্তত ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে হবে। ভর্তি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে মূলত তিনটি ধাপ অনুসরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা; আর এর মাঝে সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো এই লিখিত পরীক্ষা।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষার মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ একটি বিরতির পর এবার ২০২৭ সালের ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে নতুন সিলেবাসের আওতায় পরীক্ষার নম্বর একশ কমানোর ফলে দীর্ঘদিন পর পুনরায় ২০০ নম্বরের মূল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরে আসছে।
ঘোষিত নতুন সিলেবাস অনুযায়ী ২০০ নম্বরের মোট পরীক্ষার মধ্যে ইংরেজি বিষয়ের জন্য ৬৫ নম্বর, গণিতের জন্য ৭০ নম্বর এবং বাংলা বিষয়ের জন্য ৪৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট নম্বরের মধ্যে বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো মিলিয়ে মোট ২০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো বাংলা অথবা ইংরেজি—যেকোনো একটি মাধ্যমে এই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার স্বাধীনতা পাবেন এবং লিখিত ধাপে সফল হওয়ার অর্থই হলো ক্যাডেট কলেজে ভর্তির স্বপ্নের অর্ধেক পথ সফলভাবে অতিক্রম করা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং পরীক্ষার স্থান পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই জানিয়ে দেওয়া হবে এবং সবকটি ধাপে উত্তীর্ণদের নিয়ে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।
আগ্রহী প্রার্থীরা ক্যাডেট কলেজগুলোর নির্দিষ্ট ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Apply Now’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন, যেখানে প্রথমে একটি নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে সেই ইউজার আইডি দিয়ে লগইন করার পর মূল আবেদন ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র নির্ধারিত নিয়মে আপলোড করতে হবে।
এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ফি বাবদ সর্বমোট দুই হাজার পাঁচশ টাকা পরিশোধ করতে হবে, যা বিকাশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ, এসএসএল কমার্জ, নগদ কিংবা রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব। তবে আবেদন ফরম পূরণ ও ফি দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ভর্তি বিজ্ঞপ্তির সকল নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে পড়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর