ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মোশাররফ করিমের সঙ্গে ঝগড়াটে অভিনয়ে চিকিৎসকের নিষেধ নীলাকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
মোশাররফ করিমের সঙ্গে ঝগড়াটে অভিনয়ে চিকিৎসকের নিষেধ নীলাকে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের বিপরীতে পরপর তিনটি নাটকে অভিনয় করে বর্তমানে বেশ আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকর্মী মকফুল হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিনয়জীবন, সাম্প্রতিক ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা।

বর্তমান সময়ে নাটকের কাজেই নিজের সময় সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানালেন এই অভিনেত্রী। দর্শকের মাঝে মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর জুটিটি দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং দর্শকেরা তা অত্যন্ত পছন্দ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সুবাদেই এই গুণী অভিনেতার সঙ্গে তাঁর কাজের সংখ্যাটা কিছুটা বেশি হচ্ছে।

মোশাররফ করিমের সঙ্গে এই জুটির জনপ্রিয়তা পাওয়ার মূল কারণ প্রসঙ্গে নীলা বলেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের চেনা ও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে তিনি কিছু কাজ করেছেন। বিশেষ করে তাঁদের প্রথম আলোচিত নাটক ‘জামাই বউ অতি চালাক’-এ একেবারে ভিন্ন ধাঁচের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি, যা ছিল ঝগড়াটে এবং পুরোপুরি গ্রাম্য মেয়ের আদলে গড়া।

দর্শকদের কাছ থেকে সেই অভিনয়ের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পর থেকেই মূলত মোশাররফ করিমের সঙ্গে তাঁর বেশিরভাগ নাটকেই ঝগড়া করার দৃশ্যে সময় কাটছে।

ফেসবুকে ঝগড়া সংক্রান্ত একটি পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী জানান, বাস্তব জীবনে তিনি আদەتেই ঝগড়া করতে পারতেন না এবং ব্যক্তিগত জীবনে ঝগড়ার সময় নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো সঠিকভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হতেন। মনের ভেতর অনেক কথা জমিয়ে রাখতেন বলে একপর্যায়ে তীব্র রাগ জমে বিস্ফোরণ ঘটত এবং চিৎকার করে ইংরেজিতে অর্থহীন কিছু শব্দ উচ্চারণ করতেন—সেটাই ছিল তাঁর ঝগড়া করার ধরন।

তবে মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয়ের খাতিরে চরিত্রটির ভাষা ও ভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেন এবং মায়ের সঙ্গে টানা তিন-চার দিন বসে ঝগড়া করার কৌশল অনুশীলন করেন। পরবর্তীতে সেই প্রস্তুতি নিয়েই ঝগড়ার নাটকে অভিনয় করেন এবং দর্শকেরা তা সানন্দে গ্রহণ করেন।

তবে এই ধরনের ঝগড়াটে চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে তাঁর চিকিৎসক পর্যন্ত তাঁকে কঠোরভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন যেন আর কোনো ঝগড়াটে চরিত্রে অভিনয় করা না হয়। স্বামী যাই করুন না কেন, সাধারণ অবস্থায় তাঁর নিজের আর ঝগড়া করার ইচ্ছা হয় না, তবে তাঁর ঝগড়ার জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা যেন মোশাররফ করিমের সঙ্গেই কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ঝগড়াটে চরিত্র করা থেকে বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান যে তিনি বর্তমানে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে গলার সমস্যায় ভুগছেন এবং ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি প্রায় সময়ই তিনি অসুস্থ বোধ করছেন।

ঝগড়ার দৃশ্যে অভিনয় করতে হলে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয় এবং মানসিকভাবেও প্রচুর চাপের মুখে পড়তে হয়। এসব নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কথা বিবেচনা করেই চিকিৎসক তাঁকে এই ধরনের চরিত্র থেকে কিছুটা দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর দর্শকেরা অনেক সময় শিল্পীকে বারবার একই ধরনের চরিত্রে দেখতে চান—এই বিষয়ে তিনি বলেন যে তিনি এখন পরিচালকদের স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছেন যে তিনি ঝগড়াটে নাটকগুলোতে কিছুটা বিরতি টানতে চান। তবে একদমই যে সব বাদ দিচ্ছেন তা নয়, বরং যে চরিত্রগুলো তাঁর মনের মতো হচ্ছে, সেগুলো তিনি ঠিকই করছেন এবং কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা বেছে চলার পাশাপাশি পরিচিত গণ্ডি বা ছক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাঝখানে নাটকে কাজের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিলেও বর্তমানে তিনি আবার নাটকে কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান যে ওই সময়ে তিনি মূলত বড়পর্দার সিনেমায় মনোনিবেশ করেছিলেন এবং ইতিমধ্যে তিনটি সিনেমায় কাজ সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে একটি মুক্তি পেলেও বাকি দুটি এখনও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সিনেমায় মনোযোগ দেওয়ার পর এখন তিনি মাধ্যম নিয়ে খুব একটা বাছবিচার করছেন না, বরং অভিনয়কে ভালোবেসে যে কোনো ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সেখানেই কাজ করছেন।

বিয়ের পর কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে মানুষের মন্তব্যের জবাবে তিনি জানান যে এর সঙ্গে কিছুটা সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিয়ের আগে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হওয়ার কারণে সবকিছু খুব সহজলভ্য মনে হয়েছিল এবং সুযোগগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব তিনি তখন উপলব্ধি করতে পারেননি।

কWhen কাজ আসত কেবল করতেন, কিন্তু তখনকার মতো মনোযোগ সেখানে ছিল না, কারণ বিয়ে মানুষকে অনেক বেশি পরিপক্ব ও জীবনের প্রতি সচেতন করে তোলে।

তিনি আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে মাঝখানে তিনি যখন অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন, তখন গাড়িতে যাতায়াতের সময় রাস্তার পাশে একটি শুটিংয়ের জমকালো আয়োজন দেখতে পান। আলো, ক্যামেরা ও চেয়ারের সেই নিখুঁত সাজসজ্জা দেখে তাঁর মনে হয়েছিল যে তাঁর তো এই কাজের জায়গাতেই থাকা উচিত এবং এখানেই তাঁর কাজ করা প্রয়োজন।

এই অনুভূতির পর কাজের প্রতি তাঁর ভালোলাগা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা বিয়ের সময়ের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেলেও কেবল বিয়ের কারণেই এমন পরিবর্তন ঘটেছে তা সঠিক নয়।

মাঝখানে কাজ কমিয়ে দেওয়ার আসল কারণ ছিল কাজের প্রতি তখন আর সেই আনন্দ বা উপভোগ করার অনুভূতি না থাকা এবং সুযোগগুলোকে সহজভাবে গ্রহণ করা। তবে বর্তমান সময়ে তিনি আবার তাঁর কাজ পুরোদমে উপভোগ করছেন।

বর্তমান সময়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নীলা বলেন যে যেহেতু তিনি এখন অভিনয় পেশায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং এটিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, তাই অভিনয়ই তাঁর কাছে সবকিছু। কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক।

এমন কিছু কঠিন কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে যাচাই করতে চান যা এর আগে তিনি কখনো করেননি এবং শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বাইরেও কিছু কাজ করার সুপ্ত বাসনা ও পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বুঝে তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান।

অনুদানের সিনেমা ও বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা দুটিতেই কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান যে বর্তমানে তিনি ভিন্নধারার বা আর্ট ফিল্মের কাজ কিছুটা বন্ধ রেখেছেন। বাংলাদেশে একবার এ ধরনের কাজ করলে নির্মাতারা বারবার ওই একই ধরনের কাজের প্রস্তাবই দিতে থাকেন।

পূর্বে বেশ কিছু ভিন্নধারার কাজের পাশাপাশি তিনি বাণিজ্যিক সিনেমাও করেছেন, যেটির প্রচারণায় তাঁরা খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। তবে বর্তমান সময়ে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু উপহার দিতে চান।

অভিনয়ের বাইরে নিজের অবসর সময়গুলো তিনি কীভাবে কাটান, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে বাড়িতে অবসর পেলে তিনি নিয়মিত যোগব্যায়াম করতে ভালোবাসেন। নিজের যত্ন নেওয়া, ধ্যান করা, ব্যায়াম করার পাশাপাশি তিনি গেম খেলতে পছন্দ করেন এবং যখনই সুযোগ পান বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া তাঁর সবচেয়ে পছন্দের একটি কাজ।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
এপস্টিনের সঙ্গে হরদীপ সিং পুরির ছবি নিয়ে সরগরম রাজনীতি, মন্ত

এপস্টিনের সঙ্গে হরদীপ সিং পুরির ছবি নিয়ে সরগরম রাজনীতি, মন্ত