ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতে ব্রিটিশ স্কুল সম্প্রসারণে বড় বাধা কম আয় ও উচ্চ ফি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
ভারতে ব্রিটিশ স্কুল সম্প্রসারণে বড় বাধা কম আয় ও উচ্চ ফি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ব্রিটিশ অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর এখন ভারতের উদীয়মান ধনী শ্রেণির ওপর। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বিশাল এই বাজারে প্রবেশ করা খুব একটা সহজ নয়।

অধিকাংশ বিদেশি স্কুলই স্থানীয় বিনিয়োগকারী বা পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মোহালি ক্যাম্পাসের প্রতিষ্ঠাতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পূর্বে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় অংশীদারদের সাধারণত ১০ শতাংশ পর্যন্ত ফি বা রাজস্ব দেওয়ার চুক্তি করা যেত। কিন্তু ভারতের বর্তমান বাজারে কিছু ক্ষেত্রে এই মুনাফার হার মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অ্যাটকিনসনের ধারণা অনুযায়ী, ভারতের বাজারের প্রকৃত আকার কতটুকু, তা নিয়ে অতীতে কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত আশাবাদী ছিল। দেশটিতে প্রায় ২৫ কোটি শিশু বিদ্যালয় স্তরে পড়াশোনা করছে।

ভারতে দীর্ঘকাল ধরেই ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণের প্রচলন রয়েছে। ফলে চীন, ভিয়েতনাম কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো যেসব দেশে ইংরেজি মূল ভাষা নয়, তার তুলনায় স্থানীয় স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।

পাশাপাশি ভারতের মাথাপিছু আয় অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ব্রিটিশ স্কুলগুলোর নির্ধারিত উচ্চ বেতন তাদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ আবাসিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বছরপ্রতি ১৫ হাজার পাউন্ড বা তারচেয়েও বেশি ফি ধার্য করা হতে পারে। দামের বিষয়টি তাই এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মোহালি ক্যাম্পাসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাটকিনস নিজ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান যে, তিনি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং চীনের বাজারে কাজ করেছেন। কিন্তু ভারতীয় গ্রাহকরা দামের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তারা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত শিক্ষা চান।

এই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই বেডফোর্ড স্কুলের মোহালি শাখায় অন্যান্য ব্রিটিশ স্কুলগুলোর তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাইভেট এডুকেশন পলিসি ফোরামের (পিইপিএফ) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে বিদেশের মাটিতে ব্রিটিশ স্কুলগুলোর শাখা থেকে সর্বমোট ১৫ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

সময় গড়ায় সাথে সাথে এই লাভের পরিমাণও বেশ লক্ষণীয়ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে ভারতের বাজার নিয়ে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর পথচলা দ্রুত ও ব্যাপক না হয়ে বরং বেশ ধীরগতির হতে পারে।

ভারতের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নতুন ধনী পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই স্কুলগুলোর জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগ বয়ে এনেছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের বাজার হারানোর ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার মতো বিশাল বিকল্প বাজার হিসেবে ভারত আত্মপ্রকাশ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্যানসার রোগীর মৃত্যুঝুঁকি জানাবে নতুন এআই প্রযুক্তি

ক্যানসার রোগীর মৃত্যুঝুঁকি জানাবে নতুন এআই প্রযুক্তি