ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলে বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা, বঞ্চিত প্রায় লাখো কর্মী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
নতুন পে-স্কেলে বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা, বঞ্চিত প্রায় লাখো কর্মী ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

এগারো বছর পর রোববার সকালে নতুন পে-স্কেলের আলোকে ব্যাংক হিসাবে মাসোহারার অর্থ পেয়েছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা। রোববার সকালের দিকে সেলফোন সেবার মাধ্যমে এই অর্থ জমা হওয়ার খুদেবার্তা পান চাকরিজীবীরা।

গত অক্টোবরের নিয়মিত পারিশ্রমিকের সাথে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত অর্থের বকেয়া অংশও তাদের ব্যাংক হিসাবে যুক্ত হয়েছে।

চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ এই সুবিধা পেলেও প্রশাসনিক জটিলতায় কিছু কর্মী এখনও অর্থ পাননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন সম্পন্ন না হওয়ায় বঞ্চিতদের সংখ্যা প্রায় লাখের কাছাকাছি।

সকাল দশটার পরপরই বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা মুঠোফোনে অর্থ প্রাপ্তির বার্তা দেখতে পান। যাদের পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়াটি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি, তারা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন স্কেল চালুর পর কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ও অসঙ্গতি এখনও রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এসব সমস্যা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের দপ্তরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে লিখিত আবেদন জমা পড়েছে।

আবেদনকারী দপ্তরের তালিকায় রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বেতন নির্ধারণের সময় জ্যেষ্ঠতা এবং গ্রেডের ধারায় নানা ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাসাবাড়ির ভাড়াভাতা সংক্রান্ত জটিলতাও কর্মীদের দুশ্চিন্তায় ফেলছে।

এই ত্রুটির কারণে অনেক কর্মী তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার পরও কারও কারও সার্বিক আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

রোববার পর্যন্ত এসব সমস্যার কোনো চূড়ান্ত সমাধান মেলেনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগুলো নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পুরোনো কুড়িটি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, এক থেকে এগারো নম্বর গ্রেডের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে বারো থেকে বিশ নম্বর গ্রেডের মূল বেতন একশ পনেরো থেকে একশ বিয়াল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত পহেলা জুলাই থেকে এই নতুন স্কেল কার্যকর করা হয়েছে, তবে তা একবারে সম্পূর্ণ না দিয়ে কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম নবাগত ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের চল্লিশ শতাংশ এবং দশ থেকে বিশ নম্বর গ্রেডের কর্মীরা পঞ্চাশ শতাংশ হারে অর্থ পেয়েছেন।

গত বছরের ৩০ জুন সংগৃহীত পারিশ্রমিকের সাথে এই বর্ধিত হার যুক্ত হয়েছে। আগামী বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত বৃদ্ধির পঁচাত্তর শতাংশ প্রদান করা হবে।

পরবর্তীতে ২০২৭ সালের পহেলা জুলাই থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন স্কেলের পূর্ণ একশ শতাংশ কার্যকর করা হবে।

অন্যান্য সকল ভাতা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ জুন তারিখের বিদ্যমান হারেই বহাল রাখা হয়েছে। সংশোধিত নতুন ভাতার হার কার্যকর হবে আগামী ২০২৮ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো প্রণীত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এতদিন সেটাই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির রেকর্ড।

ওই সময় সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন পঁচানব্বই শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন একশ এক শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার পুরোনো অভিযোগের বিবরণ প্রকাশ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার পুরোনো অভিযোগের বিবরণ প্রকাশ